চট্টগ্রাম নগরীতে এখন প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি লিটার পানির সংকট রয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ কোটি থেকে ৫১ কোটি লিটার হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ কোটি লিটার। চট্টগ্রাম ওয়াসার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প–১ ও ২ থেকে উৎপাদন হয় ২৮ কোটি লিটার। এছাড়া মদুনাঘাট পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার, মোহরা পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার এবং গভীর নলকূপ থেকে প্রায় ৪–৫ কোটি লিটার উৎপাদন হয়।
চট্টগ্রাম ওয়াসার তথ্যমতে, গ্রীষ্ম এবং রমজানের মতো তীব্র চাহিদার মৌসুমে শহরের দৈনিক চাহিদা থাকে প্রায় ৬০ কোটি লিটার। এ সময় উৎপাদন কমে ৪৫ কোটি লিটারে চলে আসে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইন জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পতেঙ্গা এলাকার ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি পৌঁছায়নি। বর্তমানে পতেঙ্গাসহ নগরীর যেসব এলাকায় পানির সংকট রয়েছে সেসব এলাকায় দ্রুত পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াসা। নগরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম। গতকাল তিনি আজাদীকে জানান, নগরবাসীর পানির সংকট নিরসনে চট্টগ্রাম ওয়াসার নিজস্ব অর্থায়নে নগরীতে ৩০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এই ৩০টির কাজ শেষ হলে আরো ১৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে। আগামী ৪–৫ মাসের মধ্যে এই ৪৫টি গভীর নলকূপ থেকে দৈনিক সাড়ে ৪ কোটি লিটার পানি পাওয়া যাবে। এর মধ্যে কয়েকটি নলকূপের পানি উৎপাদনের টেস্টিং চলছে।
বর্তমানে নগরীতে প্রতিদিন ১১ কোটি লিটার পানির সংকট রয়েছে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার জন্য কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের বিদ্যমান উৎপাদন ক্যাপাসিটি (৬ কোটি লিটার) আরো ১০ কোটি লিটার বাড়ানো হবে। এই প্রকল্পের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে কথা হয়েছে। এই সপ্তাহে ঢাকায় মিটিং হবে। এই প্রকল্পে বাড়তি কোনো কাজ করতে হবে না। শুধুমাত্র ক্যাপাসিটি বাড়ানো হবে। খুব দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের অর্থায়ন করেছে দক্ষিণ কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক। ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৬ কোটি লিটার থাকলেও চাহিদা কম থাকায় উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ২৫ লাখ লিটার। এখন শুধুমাত্র পটিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলায় আবাসিকে কিছু পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এই দুই উপজেলায় ৩ হাজারের মতো সংযোগ দেওয়া হয়েছে। শিল্পকারখানাগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র সিইউএফএল সংযোগ নিয়েছে। ড্যাপ বা ডাই–অ্যামোনিয়াম ফসফেট সার কারখানায় সংযোগের কাজ চলছে। এছাড়া ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের ২ কোটি লিটার পানি কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম গত ৩ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে তিনি কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি চেয়েছেন।
কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে পাইপলাইনের মাধ্যমে পতেঙ্গায় পানি সরবরাহের জন্য ইতোমধ্যে সেতু বিভাগে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওয়াসার এমডি নিজে ঢাকা সেতু বিভাগে যোগাযোগ করেছেন। সেতু বিভাগ থেকে প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেছে।
বন্দর–পতেঙ্গা অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকা। এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ওয়াসার সুপেয় পানির সংকট আছে। পানির সংকট নিরসন ছিল আমির খসরুর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। নির্বাচিত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যে নগরীর সর্ব দক্ষিণ প্রান্তের সাগর উপকূলীয় এলাকা পতেঙ্গায় ওয়াসার পানি যাচ্ছে। চট্টগ্রাম ওয়াসায় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর সর্বপ্রথম ভান্ডালজুড়ির পানি পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেন।

