সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বাড়ছে চিনির দাম – দৈনিক আজাদী

সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বাড়ছে চিনির দাম – দৈনিক আজাদী





সরবরাহ সংকটের অজুহাতে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বাড়ছে চিনির দাম। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে প্রতি মণে (৩৭.৩২ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে ৬০ টাকা পর্যন্ত। এর আগে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারত নিজেদের বাজার ঠিক রাখতে চিনির রপ্তানি বন্ধ করার পর দাম বেড়ে যায়। পরে কিছুটা দরপতন হয়ে আবার বাড়তে থাকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বাজারে চিনির সংকট নেই। তারপরেও কিছু সংখ্যক মিল মালিক ইচ্ছে করে চিনির সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। আওয়ামী লীগ আমলের সেই পুরনো চিনির মিল সিন্ডকেট এখন আবার সক্রিয় হয়েছে। বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকার চিনির বাজারে আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়ার পরে ঊর্ধ্বমুখী চিনির দাম এক পর্যায়ে একশত টাকার নিচে নেমে আসে। সে সময় অনেক ছোট আমদানিকারকরাও চিনি আমদানি করে। এক পর্যায়ে দেশি চিনির মিল মালিকরা আমদানি মূল্যের চেয়েও কম দামে চিনির বিক্রি করে ছোট আমদানিকারকদের লোকসান দিতে বাধ্য করেন। লোকসান দিয়ে তারা চিনির বাজারে টিকতে না পেরে তারা আমদানি বন্ধ করে দেয়। ফলে বাজার পুনরায় সেই সিন্ডিকেটের হাতে চলে যায়।

গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে মণপ্রতি (৩৭.৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫৩০ টাকায়। বর্তমানে সেই চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ টাকায়। এছাড়া থাইল্যান্ডের আমদানিকৃত চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণে ৩ হাজার ৫৬০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু আছে। নিজেদের সুবিধার অনেক প্রথা আছে যেগুলো আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ’। চিনি কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই স্লিপটিই বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজারে আসার আগে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও বিক্রি করে। যে দরে ডিও বিক্রি হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্য ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যের তুলনায় ডিও বিক্রিও হয় বেশি। এর ফলেও কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন আজাদীকে বলেন, ভোগ্যপণ্যের বাজার কখনো স্থির থাকে না। অনেক সময় বুকিং বেড়ে যায়। আবার পণ্যের সরবরাহও কমে যায়। আসলে কোনো পণ্যের যখন দাম বেড়ে যায়, তখন সিন্ডিকেটের কারসাজির অভিযোগ উঠে। অথচ দাম কমে গেলে এই প্রশ্নটি তখন আর আসে না। ভোগ্যপণ্যের বাজার উঠানামা করে চাহিদা ও যোগানের ওপর। এখানে সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নাই।




Explore More Districts