চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পুলিশের চেকপোস্টে থামার সংকেত অমান্য করে পালানোর সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, পালানোর সময় মোটরসাইকেল থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ফেলে যাওয়া হয়।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ পুঁইছড়ি ফুটখালী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুর্ঘটনাটি ঘটে গন্ডামারা ইউনিয়নের মহল্লাপাড়া এলাকায়।
দুর্ঘটনায় নিহত হন শহীদ (৩২)। তিনি কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভোমরিয়াঘোনা এলাকার বাসিন্দা। আহত হয়েছেন আরেক আরোহী আরিফ আবদুল্লাহ (২৫), তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী কালু ফকির পাড়া নাজির হোসেনের পুত্র। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা বাঁশখালী থানার এসআই জামাল হোসেন, কনস্টেবল ওয়াসিম ও কনস্টেবল রাসেলসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দিলে সেটি না থেমে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এসআই জামাল হোসেনের দাবি, পালানোর সময় মোটরসাইকেল আরোহীরা একটি কমলা রঙের ব্যাগ ফেলে যায়। পরে ওই ব্যাগ তল্লাশি করে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, তারা মোটরসাইকেলটির পিছু নিলেও কিছুদূর যাওয়ার পর সেটি দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।
পরে মোটরসাইকেলটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গন্ডামারা ইউনিয়নের মহল্লাপাড়া এলাকায় গিয়ে স্পিডব্রেকার বা আইল্যান্ডে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে বলে জানায় পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করা হলেও ধাওয়া-পিছু নেওয়া নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ বলছে, অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি রবিউল হক জানান, পুলিশ চেকপোস্টে ফেলে যাওয়া ব্যাগ থেকে ২০ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


