মঠবাড়িয়ায় মন্দিরের জমি দখল ও রাস্তা বন্ধ করার অভিযোগ 

মঠবাড়িয়ায় মন্দিরের জমি দখল ও রাস্তা বন্ধ করার অভিযোগ 

৯ June ২০২৬ Tuesday ১০:১৯:৩৯ PM

Print this E-mail this


মঠবাড়িয়া ((পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

মঠবাড়িয়ায় মন্দিরের জমি দখল ও রাস্তা বন্ধ করার অভিযোগ 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মন্দিরসহ জমি দখল ও ১শ বছরের চলাচলের পথ বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রীর স্বামী জাহাঙ্গীর চৌধুরী বিরুদ্ধে। উপজেলার ৬নং টিকিকাটা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বড় সিংগা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

জাহাঙ্গীর চৌধুরীর স্ত্রী মাহিনুর চৌধুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা। গত ১৫-১৬ বছর ধরে অব্যাহতভাবে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পায়নি অর্ধ শতাধিক ভুক্তভোগী পরিবার।

এদের মধ্যে সবচেয়ে মহাবেকায়দায় পড়েছেন আব্দুল মালেক জমাদ্দার পরিবারটি। এ পরিবারটির চলাচলের কোনো পথ নেই। তারা ফসলের মাঠ ও অন্যের বাগান বাড়ির মধ্যে দিয়ে চলাচল করছেন।

ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক জমাদ্দার, স্থানীয় বাসিন্দা মজিবর রহমান, হিরু মৃধা, নাসির জমাদ্দার, মিজানুর রহমান বলেন, মালেক জমাদ্দারের বাড়ির দক্ষিণ পাশে একটি স্কুল ছিল। ওই স্কুলে স্থানীয়রা লেখাপড়া করতেন। ৫০-৬০টি পরিবারের জন্য স্কুলের পাশ থেকে রাস্তা শুরু হয়ে মালেক জমাদ্দারের বসতঘরের সামনে দিয়ে প্রধান সড়কে পথটি উঠেছে। মালেক জমাদ্দারের চাচার অংশের জমি জাহাঙ্গীর চৌধুরী ক্রয় করেন।

পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর চৌধুরী বসতবাড়ি সীমানা নালা কেটে কৌশলে সব সম্পত্তি ও হিন্দুদের মন্দিরসহ জমি নিজের আয়ত্তের মধ্যে নেন। প্রথমে ওই পথে সাঁকো দিয়ে সবাইকে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আসার পর পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। গত ১৫-১৬ বছর এমনভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে, তাতে কোনোভাবেই ওখানে চলাচলের পথ ছিল সেটা বোঝার উপায় নেই।

ভুক্তভোগী পুতুল রানী জানান, তাদের তিন কাঠা জমি জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী কৌশল করে দখল করে নিয়েছেন। ওখানে তাদের কালীমন্দির ছিল। কৌশলে মন্দিরটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার জমি ফেরত চাই। পুনরায় মন্দির নির্মাণ করে পূজা করব আমরা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, এখানে কোনো পথ ছিল না।

মন্দিরসহ জমি দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় হিন্দুরা তাকে ওই জমি স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে স্বেচ্ছায় দান করে গেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) পার্থ চক্রবর্তী বলেন, জাহাঙ্গীর চৌধুরীই একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উভয়পক্ষকে ডেকে বিষয়টি ফয়সালা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts