
তেহরান, ১২ জুন – যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানে পূর্বপরিকল্পিত সামরিক হামলা আকস্মিকভাবে বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু চরমভাবে হতবাক হয়েছেন। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সমন্বয়ে বড় ধরনের ফাটল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে নেতানিয়াহু প্রায় অন্ধকারে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন।
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত সংঘাত কমিয়ে অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে আগ্রহী। অন্যদিকে নেতানিয়াহু চাইছেন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি খসড়া চুক্তি নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এই সমঝোতার ভিত্তিতেই তিনি নির্ধারিত বিমান হামলা বাতিল করেছেন।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী এই কাঠামোবদ্ধ সমঝোতায় সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কসহ আঞ্চলিক বেশ কয়েকটি দেশ একমত পোষণ করেছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কোনো সমঝোতা স্মারকের অংশীদার নয়। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে কঠোর সীমাবদ্ধতার বিষয়টি থাকতে হবে।
দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যেও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এক ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই দূরত্ব মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কূটনীতিকে এক নতুন ও অনিশ্চিত মোড় দিতে পারে।
এনএন/ ১২ জুন ২০২৬




