নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতিতে পিরোজপুরের সাড়ে ৫ হাজার জেলে, ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা মাথায়

নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতিতে পিরোজপুরের সাড়ে ৫ হাজার জেলে, ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা মাথায়

১১ June ২০২৬ Thursday ১:২৬:৪৫ AM

Print this E-mail this


পিরোজপুর প্রতিনিধি:

নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতিতে পিরোজপুরের সাড়ে ৫ হাজার জেলে, ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা মাথায়

সমুদ্রে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আগামী ১১ জুন। সেই লক্ষ্যে পিরোজপুর জেলার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার সমুদ্রগামী জেলে এখন সাগরে যাওয়ার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তবে আশার পাশাপাশি তাদের মাথায় চাপা পড়ে আছে মহাজন ও এনজিওর ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা।

পিরোজপুরের পাড়েরহাট জেলে পল্লী ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে সারি সারি ট্রলার নোঙর করা। কেউ ট্রলারে রং করছেন, কেউ জাল মেরামত করছেন, আবার কেউ নতুন জাল বুনছেন। যে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রতিদিন ভোর থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ বেচাকেনা হতো, সেখানে এখন বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা। একই চিত্র জিয়ানগর উপজেলার সাঈদখালী চর এবং মঠবাড়িয়া উপজেলার মঝেরচরসহ জেলার বিভিন্ন জেলে পল্লীতে।

জেলেরা জানান, প্রায় দুই মাস নিষেধাজ্ঞায় ধার-দেনা করে কোনোরকমে সংসার চালিয়েছেন তারা। এখন ডিজেলের দাম বাড়ায় নতুন দুশ্চিন্তাও যোগ হয়েছে। পর্যাপ্ত মাছ না পেলে ক্ষতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সমুদ্রগামী জেলে কাউয়ুম হাওলাদার বলেন, দুই মাসে যা দেনা হয়েছে, মাছ বিক্রি করে সেই দেনা শোধ করব। গত বছর ভালো মাছ পেয়েছি, এ বছরও আশা রাখছি।

জেলে ফেরদৌস সরদার বলেন, সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। মাছ পেলে ঋণ শোধ করতে পারব, না পেলে অনেক কষ্ট হবে। পরে আর যেতে পারব কিনা সন্দেহ।

জেলে জাকির শেখ বলেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় কোনো সরকারি চাল পাইনি। মাছ পেলে মন ভালো থাকবে, না পেলে কতটা ক্ষতি হবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

পিরোজপুর সমুদ্রগামী ট্রলার সমিতির সভাপতি কমল দাস বলেন, গত বছর নিষেধাজ্ঞার পরেও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া যায়নি। একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ হয়। এ বছরও যদি একই অবস্থা হয় তাহলে আর সাগরে যাওয়ার অবস্থা থাকবে না। ইতোমধ্যে তিনটির মধ্যে দুটি ট্রলার বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি। তার মতে, সাগরে ট্রলিং জাহাজ বন্ধ না করলে মাছের সংকট কমবে না। এই জাহাজগুলো লক্ষ লক্ষ টাকার জাল নষ্ট করার পাশাপাশি ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের রেণু-পোনা ধ্বংস করছে বলে অভিযোগ তার।

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত জানান, জেলার ৫ হাজার ৩৯৩ জন জেলেকে জনপ্রতি ৭৭.০৪ কেজি হারে মোট ৪১৭ মেট্রিক টন চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জেলেরা সমুদ্রে পর্যাপ্ত মাছ পাবেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হওয়ায় এ বছর প্রচুর মাছ পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা জেলেদের।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts