| ৬ June ২০২৬ Saturday ৯:২৬:০৩ PM | |
নিজস্ব প্রতিনিধি:

বরিশাল নগরীর ৩০নং ওয়ার্ডস্থ কাশিপুরের চহঠা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীকে মারধর মামলায় আটকের পর জামিন নিয়ে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ওই এলাকার মৃত আক্তার তালুকদারের ছেলে মোঃ দেলোয়ার তালুকদারের বিরুদ্ধে। এতে বাদী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এদিকে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মামলার আসামীরা হলেন- মৃত আক্তার তালুকদারের ছেলে মোঃ দেলোয়ার তালুকদার (৬০) ও তার দুই ছেলে মোঃ প্রিন্স তালুকদার ও মোঃ শান্ত তালুকদার ও দেলোয়ার তালুকদারের স্ত্রী মোসাঃ শামসুর নাহার।
বাদীর পরিবার ও এজাহারে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মোঃ দেলোয়ার তালুকদারের সঙ্গে প্রতিবেশী আব্দুল হক হাওলাদারের বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকা বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে আব্দুল হক হাওলাদারের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মোঃ দেলোয়ার তালুকদার ও তার দুই ছেলে মোঃ প্রিন্স তালুকদার ও মোঃ শান্ত তালুকদার এবং স্ত্রী মোসাঃ শামসুর নাহার লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে আব্দুল হক হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় আব্দুল হক হাওলাদারের স্ত্রী ফুলি বেগমকে সামনে পেয়ে বেধম মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে আব্দুল হক হাওলাদার বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়েরের পর রাতেই মোঃ দেলোয়ার তালুকদার ও তার দুই ছেলে মোঃ প্রিন্স তালুকদার, মোঃ শান্ত তালুকদারকে আটক করা হয়। পরে আদালতে পাঠালে তাদের জামিন মঞ্জুর করে বিচারক।
এদিকে জামিনে বের হয়েই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন মোঃ দেলোয়ার তালুকদার। মামলা তুলে নিতে বাদীকে খুন জখমের হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী আব্দুল হক হাওলাদার। এ অবস্থায় মামলার বাদী আব্দুল হক হাওলাদার ও তার পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
মামলার বাদী আব্দুল হক হাওলাদার বলেন, মোঃ দেলোয়ার তালুকদার ও তার ছেলেরা জামিনে বের হয়ে এসে আমাকে এবং পরিবারকে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতেন বলেন। তা না হলে তারা আমাকে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খুন জখমের হুমকি দেন। এ অবস্থায় আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি। আমি এর প্রতিকার চাই।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, চহঠা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীকে মারধরের মামলায় এজাহারভুক্ত তিনজন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে বাদিকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই। এখন জামিনে বের হয়ে কোন আসামী বা অন্য কেউ যদি মামলার বাদিকে হত্যার হুমকি দিয়ে থাকে সেটাও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


