
মস্কো, ৬ জুন – ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মুখোমুখি বৈঠকের জন্য জেলেনস্কি একটি খোলা চিঠি পাঠালেও পুতিন বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনো আলোচনার প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।
গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার জেলেনস্কি ওই চিঠির মাধ্যমে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের আহ্বান জানিয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন যে ২০২২ সালে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর এখন আবারও বিশ্ব তথা যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রে ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকা একটি ভুল সিদ্ধান্ত হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট চিঠিতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি কিছু বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেন। পুতিন জেলেনস্কির এই চিঠির ভাষাকে অমার্জিত বলে অভিহিত করেছেন। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন বলেন যে এই মুহূর্তে তিনি কোনো বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন যে এই প্রস্তাব কি আলোচনার পরিবেশ তৈরির জন্য নাকি বৈঠক এড়ানোর জন্য সেটি ভাবার বিষয়। পুতিন তাঁর আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানান যে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির আগে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি হওয়া প্রয়োজন।
তিনি মনে করেন যে শুধুমাত্র সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলে ইউক্রেন নিজেদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে যা রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক লুহানস্ক খেরসন ও ঝাপোরিজ্জিয়া অঞ্চল থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নেটোতে যোগদানের পরিকল্পনা চিরতরে বাতিল করতে হবে।
তবে কিয়েভ কোনো শর্তে ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি নয়। পুতিনের এমন প্রতিক্রিয়ার পর ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বার্তায় জানান যে রাশিয়া আবারও যুদ্ধের পথকেই বেছে নিয়েছে এবং পুতিন আসলে যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী নন।
এস এম/ ৬ জুন ২০২৬





