সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

​নিজের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুটি চেক জালিয়াতি মামলার নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত এবং সপরিবারে শারীরিক নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের ঘটনার বিচার চেয়ে মৌলভীবাজারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংবাদ ও মানবাধিকারকর্মী মো. জয়নাল আবেদীন বাদশা।

শনিবার (২৩ মে) বিকালে মৌলভীবাজার শহরের ‘মামার বাড়ি রেস্টুরেন্ট’ হল রুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলে পরিবহন শ্রমিকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হওয়াতে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান জয়নাল আবেদীন বাদশা। এর আগে গত ২১ মে বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীমঙ্গলের টি ভ্যালী পার্টি সেন্টারেও তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একই বিষয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জয়নাল আবেদীন বাদশা জানান, তিনি দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ধরে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, মানবাধিকার ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছেন। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তার গ্রামের বাসিন্দা মো. মাসুক মিয়া অভিযোগ করেন যে, ভারতীয় চিনি ব্যবসার কথা বলে জয়নাল আবেদীন কথিত মাহবুব মুর্শেদ নামের একজনের ডাচ-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

​তার দাবি, ওই সালিশ বৈঠকের এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের দুটি স্বাক্ষরকৃত চেক এবং একটি লিখিত চুক্তিপত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই চেকের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে জিআর ২৫৫/২০২৪ (দায়রা নং-৫৮১/২০২৪) এবং জিআর ২৫৬/২০২৪ (দায়রা নং-৫৮২/২০২৪) মামলা দায়ের করা হয়। গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে আদালত উক্ত মামলাদ্বয়ের রায় ঘোষণা করেন। এতে একটি মামলায় তাকে ১ মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং অপর মামলায় ১ বছরের কারাদণ্ডসহ ১৮ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। বর্তমানে মামলা দুটি উচ্চ আদালতে আপিল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

​তিনি আরও উল্লেখ করেন, মামলা চলাকালে আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করা হলে ডাচ-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আদালতে লিখিতভাবে জানায় যে, উল্লিখিত হিসাব নম্বরটির কোনো অস্তিত্ব তাদের শ্রীমঙ্গল শাখায় নেই।

​লিখিত বক্তব্যে জয়নাল আবেদীন বাদশা আরও অভিযোগ করেন, আপিল পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গত ৩০ এপ্রিল তিনি শ্রীমঙ্গল যাওয়ার পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে শহরের হবিগঞ্জ রোডস্থ একটি গ্যারেজে নিয়ে যায়। সেখানে তার ওপর ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই নির্যাতনের একটি ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

​তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় তার স্ত্রীকেও আটকে রেখে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং তার স্ত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ২৫ হাজার টাকা ও প্রায় দুই ভরি ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানায় ইতিমধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

​ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল আবেদীন বাদশা বলেন, “আমি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা রাখি। উচ্চ আদালতে মামলার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”

​তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত, ব্যাংকিং তথ্যের সঠিক যাচাই এবং তার ও তার পরিবারের ওপর হওয়া শারীরিক নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনের নিকট ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

​সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডিএস/এফআর/এসএ

Explore More Districts