ভাড়া নিয়ে বিরোধ, রাঙ্গুনিয়ায় ফল বিক্রেতার মৃত্যু – দৈনিক আজাদী

ভাড়া নিয়ে বিরোধ, রাঙ্গুনিয়ায় ফল বিক্রেতার মৃত্যু – দৈনিক আজাদী

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার এলাকায় জমির খাজনার মাত্র ৭২০০ টাকার বিরোধের জেরে আবুল কাসেম (৬০) নামে এক ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুকে ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ভূমি মালিকের ছেলের লাথির আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ও একটি ভিডিও ফুটেজের সূত্রে জানা গেছে, বাগবিতণ্ডার সময় অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে তিনি স্ট্রোক করে থাকতে পারেন। গত শুক্রবার রাতের এই ঘটনার পর গতকাল শনিবার সকালে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া এদিন বাদে আছর নামাজে জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হয়।

নিহত আবুল কাসেম উপজেলার চন্দ্রঘোনাকদমতলী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মূল বাড়ি নোয়াখালীর শহীদপুর এলাকায় (পিতা মৃত বেছু মিয়া) হলেও তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার এলাকায় বসবাস করছিলেন। একসময় চায়ের দোকান করলেও বর্তমানে তিনি ফলের ব্যবসা করতেন।

নিহতের স্ত্রী মরিয়ম বেগম অভিযোগ করেন, বছরে ৭ হাজার ২০০ টাকা খাজনা (ভাড়া) হিসেবে তারা ঘর বেঁধে থাকতেন। শুক্রবার রাতে তার স্বামী কাজ থেকে ফেরার পথে ভূমি মালিক আব্দুল আলিমের ছেলে সুমনের সাথে খাজনা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। সুমনের কাছে আমাদের চায়ের দোকান বিক্রির ৫০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। সুমন বকেয়া ভাড়া চাইলে আমার স্বামী পাওনা টাকা থেকে তা কেটে রাখতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুমন অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। এর প্রতিবাদ করায় একপর্যায়ে সুমন তাকে সজোরে লাথি মারে। এতে তিনি তাৎক্ষণিক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা ক্রিশ্চিয়ান মিশন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তবে ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে জানা গেছে ভিন্ন তথ্য। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বকেয়া ভাড়া চাওয়া নিয়ে জমিদার ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। উভয় পক্ষ উত্তেজিত ছিল। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন উপস্থিত জনতা। স্থানীয় অনেকের ধারণা, অতিরিক্ত উত্তেজনার কারণে আবুল কাসেম স্ট্রোক (হিট স্ট্রোক) করে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এদিকে আবুল কাসেমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পাশের একটি সমিল (করাত কল) থেকে মূল্যবান কাঠ চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কাঠ ব্যবসায়ীদের দাবি, ঘটনার পর সৃষ্ট হট্টগোলের সুযোগে দুর্বৃত্তরা সমিল থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার মূল্যবান কাঠ লুটে নেয়।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন জানান, হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মূল অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া কাঠ চুরির বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Explore More Districts