যশোরের ঘুনী-বানিয়ারগাতী-পদ্মবিলা আঞ্চলিক কার্যালয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে যশোর সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন-কে দ্বিতীয়বারের মতো কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ৯১৮ শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (২০ মে) ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনিয়নের সভাপতি হায়দুল ইসলাম লালটু। এর আগে একই অভিযোগে তাকে একবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।নোটিশে উল্লেখ করা হয়,ঘুনী-বানিয়ারগাতী-পদ্মবিলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সভাপতি-সম্পাদকসহ একাধিক সদস্য লিখিত অভিযোগ করেছেন যে, আনোয়ার হোসেন বহিরাগত লোকজন নিয়ে বিভিন্ন সময় কার্যালয়ে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করছেন। টাকা না দিলে অফিস বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ঘুনী-বানিয়ারগাতী-পদ্মবিলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সভাপতি মোঃ জামাল হোসেন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো লিখিত অভিযোগে বলেন, তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ সহ-সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে ৫০ হাজার টাকা দাবি করছেন এবং টাকা না দিলে অফিসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনোয়ার হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
যশোর সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জাফর বলেন, অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট। তবে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ বলেন, দলের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো চাঁদাবাজকে সংগঠনে রাখা হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোর জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাবুদ্দিন বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো তাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে যশোর জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি মোঃ জাফর বলেন, সংগঠনে কোনো চাঁদাবাজের ঠাঁই নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে উপযুক্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হায়দুল ইসলাম লালটু বলেন, দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



