৪৬ লাখের বেশি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশুদের জন্য কাজ করছে সরকার

৪৬ লাখের বেশি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশুদের জন্য কাজ করছে সরকার

৪৬ লাখের বেশি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশুদের জন্য কাজ করছে সরকার

দেশে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী ৪৬ লাখের বেশি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশু রয়েছেন। এসকল বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশুদেরকে সম্পদে রূপান্তর করতে কাজ করছে সরকার। তার অংশ হিসেবে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশুদের চিকিৎসা সেবা, বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ, খেলাধুলার জন্য আগ্রহীকরণসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে। তাই বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এসকল ব্যক্তি ও শিশুদেরকে বুঝা মনে না করে, তাদের সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আর এসকল ব্যক্তি ও শিশুকে সম্পদে রূপান্তর করতে হলে প্রত্যেকের অভিভাবকদের গুরুত্ব অপরিসীম।

মঙ্গলবার (১৯ মে) হিউম্যান কেয়ার বাংলাদেশ আয়োজনে ও ট্রোপ ইভেন্টস ও জি.আই.ই.টি ইন্সটিটিউট-এর সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই সামিট অনুষ্ঠিত হয়।সিলেটের একটি অভিজাত কনভেনশন হলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, আপনারা লক্ষ্য করবেন বিশেষ চাহিদা সম্পন্নরা একেকজন একেক গুণে গুণান্বিত। যাদের হাত নেই, তারা যখন পা দিয়ে লিখে, তখন সেই লেখাগুলো আমাদের চেয়েও আরও সুন্দর ও মার্জিত হয়। এছাড়া বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্নদেরকে তাদের মেধা অনুযায়ী কাজ দিলে, তারা খুব দ্রুত সেই কাজে সফল হয়। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিশুদের মেধা, প্রতিভা এবং অধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম বৃহৎ পরিসরের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম—’স্পেশাল এবিলিটি সামিট ২০২৬’। এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “অ্যা সেলিব্রেশন অব হিউম্যান পটেনশিয়াল” বা মানব সক্ষমতার উদযাপন।

সম্মানিত বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি বলেন, “বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে আমাদের সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। রাষ্ট্র ও সমাজকে যৌথভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সামাজিক অংশগ্রহণের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এই অসাধারণ মানুষদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দিলে তারা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখতে সক্ষম। এজন্য আমাদের কর্মপরিবেশকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংবেদনশীল করতে হবে।

হিউম্যান কেয়ারের প্রতিষ্টাতা ও চেয়ারম্যান এমজি রাব্বানী এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি সৈয়দা শারমিন ফাতেমা, সাইকা তাবাসসুম চৌধুরী নাহিয়া এর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, হিউম্যান কেয়ারের উপদেষ্টা সামা হক চৌধুরী ও সায়মা সুলতানা চৌধুরী লিনু।

সামিটে বিভিন্ন সেশনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আলোচনা ও বক্তব্য রাখেন, সিলেট ৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেক , সিলেট-৬ এর সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, পিপিএম, সিলেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সলর প্রফেসর ড. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির ক্ষুদ্র ও কুটির বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট মহানগর বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী, ড. মোস্তফা শাহ জামান বাহার, বিশিষ্ট সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট এর সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী, এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক হিসকিল গোলজার, দৈনিক পূর্ণভুমির সম্পাদক আবু তালেব মুরাদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম, সাংবাদিক ইকরামুল কবির, রাজনীতিবিদ ফয়সল আহমদ চৌধুরী, বিশিষ্ট কবি ও রাজনীতিবিদ সালেহ আহমদ খছরু, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো: আব্দুর রফিক, ফুলকলীর ডাইরেক্টর জসিম উদ্দিন, সাংবাদিক মঈন উদ্দিন মনজু, সাংবাদিক আনিস রহমান, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাংবাদিক সুলতান সুমন, হিউম্যান কেয়ারের সহ-সভাপতি রোটারিয়ান মাজহারুল ইসলাম জয়নাল, হিউম্যান কেয়ার এর সহ-সভাপতি এস রহমান সায়েফ, মিলাদ রহমান, মো: হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

এদিকে, সামিটের মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন জাকিয়া সুলতানা চৌধুরী লিমি চৌধুরী। দিনব্যাপী এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ভুল ধারণা ভাঙা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা। যেখানে প্যানেলিস্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ জাহিদুল ইসলাম। আলোচনা শেষে উপস্থিত অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়কদের জন্য একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দানবীর ড. রাগিব আলীকে হিউম্যান কেয়ারের পক্ষ থেকে সমাজসেবা ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বিকালে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন, এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন, এমপি বলেন, “বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে আমাদের সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। রাষ্ট্র ও সমাজকে যৌথভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সামাজিক অংশগ্রহণের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”

সামিটের সমাপনী অধিবেশনে বাংলাদেশে অটিজম সচেতনতা, সহায়তা ও উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সমাজসেবক, দানবীর ও শিল্পপতি ড. রাগীব আলীকে’ বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিতরণী শেষে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের পরিবেশনায় এক মুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্পেশাল ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বিপুল সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে সামিটের ইভেন্ট চেয়ার আলেয়া ফেরদৌসী তুলি ধন্যবাদ বক্তব্যের মাধ্যমে সামিটের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন। দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সদস্য, অটিজম বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ডিএস/এফআর/এসএ

Explore More Districts