সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার দেশের গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন দেখছে কীভাবে এই বেতন কাঠামো সবচেয়ে ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পুরো পে স্কেল একবারে নয়, তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। তবে সিদ্ধান্তটি সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এক ধরনের বিতর্কও তৈরি করেছে।
একটি পক্ষ সরকারের ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মত মনে করছে। অন্য পক্ষ বলছে, নতুন পে স্কেলের গেজেট এক ধাপেই প্রকাশ করা উচিত।
তাদের যুক্তি, আংশিক বাস্তবায়ন হলে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এতে বেতন বাড়লেও বাস্তব সুবিধা কমে যেতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করার কথা রয়েছে।
তৃতীয় ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সমন্বয় করা হবে। সরকার মনে করছে, এতে একসঙ্গে বড় ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে না।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে বিদ্যমান ২০ গ্রেড বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ আছে।
সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথাও প্রস্তাবে আছে। এই কাঠামো অনুমোদিত হলে গ্রেডভেদে বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারের জন্য এখন বড় প্রশ্ন শুধু বেতন বাড়ানো নয়। নতুন কাঠামো চালুর সঙ্গে বাজার, বাজেট এবং সরকারি ব্যয়ের চাপও সামলাতে হবে।
চাকরিজীবীরা এখন গেজেটের অপেক্ষায় আছেন। কারণ শেষ কথা সাক্ষাৎকারে নয়, সরকারি প্রজ্ঞাপনেই লেখা থাকবে।
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com



