গোয়াইনঘাটে কিশোরীকে তুলে নিতে না পেরে দাদীকে হত্যা

গোয়াইনঘাটে কিশোরীকে তুলে নিতে না পেরে দাদীকে হত্যা

গোয়াইনঘাটে কিশোরীকে তুলে নিতে না পেরে দাদীকে হত্যাসিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলায় এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ সময় তার কিশোরী নাতনিও গুরুতর আহত হয়। পরিবারের দাবি, কিশোরীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় হামলাকারীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের বীর মঙ্গল হাওরের মাটিকাঁপা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত দিলারা বেগম (৫৪) মৃত মাহমুদ হোসেনের স্ত্রী। আহত হাবিবা আক্তার (১৪) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে কিশোরী হাবিবার মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। হাবিবার চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তার হাতে কামড় দেয়। একপর্যায়ে হাবিবা প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার করতে থাকলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

এ সময় পাশের কক্ষ থেকে দাদি দিলারা বেগম ছুটে এসে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নাতনিকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। তখন হামলাকারীরা তার বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই মারা যান দিলারা বেগম।

ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই স্থানীয় লোকজন আহত হাবিবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম হাওরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এলাকাবাসী দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জের অথবা কিশোরীকে অপহরণের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে সব বিষয় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার এসআই হাফিজ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও স্পর্শকাতর ঘটনা। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। খুব দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

এদিকে, একটি শান্ত গ্রামে এমন ভয়াবহ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, “আজ যদি ঘরের ভেতরও মানুষ নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”

ডিএস/এমসি

Explore More Districts