| ১৪ May ২০২৬ Thursday ৯:০৩:০০ PM | |
নগর প্রতিনিধি:

বরিশালের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপ ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা রাতে বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সমাজসেবা কার্যালয়ের সম্মুখে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার অনুগত বাস শ্রমিকদের হামলায় বরিশাল জেলা ও মহানগর অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের অন্তত ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করেছিল। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, আরেক গ্রুপ সদর আসনের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারী ছাত্র-যুব এবং শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার রাতে বিএনপি নেতা জিয়ার শ্যালক বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদারের নেতৃত্বে সমাজসেবা কার্যালয়ের সম্মুখে অন্তত ২০/২৫ জন বরিশাল জেলা ও মহানগর অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সাথে আকস্মিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে সোহাগের নেতৃত্বে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে অন্তত ৩০/৩৫টি মাহিন্দ্র-সিএনজি ভাঙচুর করাসহ ৫ শ্রমিক নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। তাদের মধ্যে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন বরিশাল মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন মোল্লা, রূপাতলী শাখা কমিটির সভাপতি স্বপন মোল্লা এবং একই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজকে উদ্ধার করে রাতেই শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে।
মাহিন্দ্র সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, বরিশাল জেলা ও মহানগর অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সরকারি অনুমোদন থাকলেও তাদেরকে মহানগর বিএনপির নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের অনুসারীরা রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে ভিড়তে দিচ্ছেন না।
এই বিএনপি নেতার শ্যালক সোহাগ জোরপূর্বক বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদ দখল করে রূপাতলীসহ আশপাশ এলাকাসমূহে পরিবহন সেক্টরে সকলের মাথার ওপর ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। এবং পরিবহনগুলোতে দেদারছে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বুধবার রাতে সংঘাত এবং রক্তারক্তির ঘটনায় আইনি ঝামেলা থেকে নিজেদের রক্ষায় উল্টো বরিশাল-পটুয়াখালী-ঝালকাঠি সড়ক অবরোধ করে বিএনপি নেতা জিয়া সিকদারের অনুসারীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ কোতয়ালি মডেল থানার ওসি ছুটে গেলেও হামলাকারী কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি পারভেজ খান মুন অভিযোগ করেন, তাদের সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত পরিবহনগুলো শহর থেকে বের হতে দেয় না বাস মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। এনিয়ে দুটি সংগঠনের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বুধবার রাতে অনেকটা আকস্মিক তাদের ওপর অস্ত্রসহ হামলা করে বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের শ্যালকসহ কতিপয় ক্যাডার বাহিনী।
একপর্যায়ে তাদের কার্যালয় ভাঙচুর করাসহ তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রাখলে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও বিএনপি নেতার প্রভাব বিস্তারের কারণে আইনগত কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করছে না পুলিশ। ফলে বাধ্য অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ভুক্তভোগী সদস্যরা বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল শহরের সদর রোড অবরোধ করে। ঘণ্টাব্যাপি অবরোধের ফলে সদর রোডের দুই প্রান্তে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে বুধবার রাতের ঘটনায় ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা রাস্তা থেকে সরে গিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে দেন।
তবে বুধবার রাতে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করছেন বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের শ্যালক সোহাগ হাওলাদার। তার দাবি, তথাকথিত সংগঠনের নেতারা বাস শ্রমিক এবং মালিকদের ওপর আগে হামলা করে, তখন তারা প্রতিরোধ করেছেন। তাছাড়া এই সংগঠনের নামে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি চালানোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন করেন সোহাগ।
বুধবার রাতের হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সদর রোড অবরোধ করে হামলাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এসময় সড়কের দুই প্রান্তে বহু যানবাহন আটকা পড়লে ঘটনাস্থলে তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি আল মামুন উল ইসলাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশালটাইমসকে বলেন, বাস মালিক এবং শ্রমিকদের তরফ থেকে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি শহরের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা চাওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সংঘর্ষের পরে রাস্তা আটকে বিষয়টি তারা দাবি আকারে প্রশাসনের উচ্চমহলে তুলে ধরেন। এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা অবরোধ তুলে নিয়ে রাস্তা ছেড়ে দেয়। সেই ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে অটোরিকশা, অটো টেম্পু, মিশুক বেবিটেক্সি, মাহিন্দ্র-সিএনজি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সদর রোড অবরোধ করেছিল। পরে সেখানে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বুধবার রাতের হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। বর্তমানে সদর রোড এবং রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের পরিবেশ-পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে জানান ওসি।’
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

