সিলেট বিআরটিএ অফিসে নেই হেল্প ডেস্ক, ভরসা এডি আব্দুর রশিদ

সিলেট বিআরটিএ অফিসে নেই হেল্প ডেস্ক, ভরসা এডি আব্দুর রশিদ

সিলেট বিআরটিএ অফিসে নেই হেল্প ডেস্ক, ভরসা এডি আব্দুর রশিদসিলেট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে প্রতিদিন শত শত মানুষ ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস ও ট্যাক্স সংক্রান্ত কাজ নিয়ে আসেন। কিন্তু অফিসে কার্যকর হেল্প ডেস্ক না থাকায় সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। কোথায় যেতে হবে, কোন কাজের জন্য কোন কক্ষে যোগাযোগ করতে হবে—এই মৌলিক তথ্য না জানার সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালালচক্র। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।
মঙ্গলবার সিলেট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের দীর্ঘ ভিড়। কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য, কেউ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, আবার কেউ মালিকানা পরিবর্তনের কাজ নিয়ে এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে ঘুরছেন। অফিসের বারান্দায় “হেল্প ডেস্ক” লেখা একটি ছোট কক্ষ থাকলেও সেটি প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ পড়ে আছে। দরজায় ধুলাবালি জমে রয়েছে, ভেতরে নেই কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপস্থিতি। ফলে কোন কাজের জন্য কোথায় যেতে হবে কিংবা কীভাবে আবেদন করতে হবে—এমন সাধারণ তথ্য জানারও কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নেই। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অফিসের আশপাশে ঘোরাফেরা করা দালালচক্র সহজ-সরল মানুষদের টার্গেট করে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার প্রলোভন দিচ্ছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন।
জকিগঞ্জ থেকে আসা আব্দুর রহমান নামে এক ভুক্তভোগী বলেন,
“এখানে কোন কাজ কোথায় হয়, সেটা জানার কোন সুযোগ নেই। রেজিস্ট্রেশন, বায়োমেট্রিক, মালিকানা ট্রান্সফার কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স—সব কাজেই দালালদের দৌরাত্ম্য। অতিরিক্ত টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা বা হারিয়ে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়।”
আরেক সেবাগ্রহীতা রুবেল আহমদ বলেন, “সকালে এসে দুপুর পর্যন্ত ঘুরেছি। কেউ সঠিকভাবে তথ্য দেয় না। পরে এক দালাল এসে বলে টাকা দিলে সব কাজ করে দেবে। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই তাদের কাছে যায়।”

এমন পরিস্থিতির মধ্যেও সিলেট বিআরটিএ অফিসে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছেন সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ। তিনি ৩২০ নম্বর কক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন। কক্ষের দরজায় বড় করে লেখা রয়েছে—“রুমে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই।”
এই একটি বাক্যই যেন ভোগান্তিতে থাকা মানুষের জন্য স্বস্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন তার কক্ষের সামনে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অভিযোগ-পরামর্শ কিংবা তথ্য জানতে সরাসরি তার কাছে যাচ্ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
সেবাগ্রহীতাদের অনেকেই জানান, আব্দুর রশিদ অত্যন্ত আন্তরিকভাবে মানুষের কথা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন। তিনি দালাল ছাড়া সঠিক নিয়মে কাজ করার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
কোম্পানীগঞ্জ থেকে আসা এক বৃদ্ধ বলেন,“আমি ভেবেছিলাম এখানে কাজ করতে অনেক টাকা লাগবে। কিন্তু আব্দুর রশিদ স্যার নিজে ডেকে কাগজ দেখে দিয়েছেন। এমন কর্মকর্তা থাকলে মানুষ সাহস পায়।”
এক নারী সেবাগ্রহীতা বলেন,“সরকারি অফিসে কেউ এভাবে সম্মান দিয়ে কথা বলে না। উনি খুব ধৈর্য ধরে সব বুঝিয়ে দেন।”

হেল্প ডেস্ক বন্ধ থাকার বিষয়ে সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ বলেন,“জনবল সংকটের কারণে হেল্প ডেস্কটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি সাধারণ মানুষ যেন সহজে সেবা পায়। খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।”

সচেতন মহল মনে করছেন, বিআরটিএ অফিসে দ্রুত কার্যকর হেল্প ডেস্ক চালু, দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো গেলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি আব্দুর রশিদের মতো সেবাবান্ধব কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা হলে সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

ডিএস/এমসি

Explore More Districts