
তেহরান, ১০ মে – মধ্যপ্রাচ্যের বারুদঠাসা পরিস্থিতিতে এবার নতুন রণকৌশল নিয়ে হাজির ইরান। হরমুজ প্রণালিতে শত্রু পক্ষের নৌযান গুঁড়িয়ে দিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হালকা প্রকৃতির সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই ঘাতক সাবমেরিনগুলোকে ইরানি নৌবাহিনী ভালোবেসে ডাকছে ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ নামে।
আজ রোববার (১০ মে) ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই রণপ্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছেন।
রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জানান, এই হালকা সাবমেরিনগুলো অত্যন্ত ক্ষিপ্র এবং সমুদ্রের তলদেশে দীর্ঘ সময় ঘাপটি মেরে পড়ে থাকতে সক্ষম।
এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
- অদৃশ্য ঘাতক: সমুদ্রের গভীর তলদেশে অবস্থান করে রাডার ফাঁকি দিয়ে শত্রু জাহাজ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।
- ক্ষিপ্রতা: অত্যন্ত সংকীর্ণ জলপথেও এগুলো অনায়াসেই চলাচল করতে পারে, যা পারস্য উপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থানে নিখুঁত আক্রমণ চালাতে সহায়ক।
- মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ: ‘ডেনা ডেস্ট্রয়ার’ জাহাজের শহীদদের স্মরণে বিশেষ অভিযানের সময় এই সাবমেরিনগুলো পানির উপরে উঠে এসে নিজেদের সক্ষমতা জানান দেয়, যা শত্রুপক্ষের জন্য একটি কড়া বার্তা।
ইরানের এই হার্ডলাইন অবস্থানের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ সংঘাতের ইতিহাস। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় আলোচনা চলাকালীন ইরানজুড়ে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রাণ হারান।
একই দিন মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক মিসাইল হামলায় ১৬৮ জন নিষ্পাপ শিক্ষার্থী নিহত হয়। ইরান সরকার এই ঘটনাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালিয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মোট ৩,৩৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৫০০ নারী এবং অসংখ্য শিশু।
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এক দফার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে ইরান। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘ডলফিন’ সাবমেরিন মোতায়েনের মাধ্যমে ইরান বুঝিয়ে দিল যে, হরমুজ প্রণালিতে বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন এখন পুরোপুরি তেহরানের নিয়ন্ত্রণে।
এনএন/ ১০ মে ২০২৬





