দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে আসার ইঙ্গিত! সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বৈঠক – DesheBideshe

দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে আসার ইঙ্গিত! সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বৈঠক – DesheBideshe



দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে আসার ইঙ্গিত! সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বৈঠক – DesheBideshe

তেহরান ৭ মে – ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের রহস্য ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সামনে এলেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেছেন।

গত মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনসমক্ষে না আসায় মোজতবার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছিল, প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য তাকে নতুন মাত্রা দিল।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে নিরাপত্তা বা অন্য কোনো কারণে ঠিক কবে এবং কোথায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তিনি দেননি।

বৈঠকের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, “এই বৈঠকে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাঁর বিনয়ী ও আন্তরিক আচরণ আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে।”

কেন আড়ালে ছিলেন মোজতবা খামেনি?

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে না আসার পেছনে রয়েছে এক রক্তক্ষয়ী প্রেক্ষাপট। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার দিনে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল খামেনি পরিবার। ওই হামলায় ইরানের টানা তিন দশকেরও বেশি সময়ের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। একই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তাঁর পুত্র মোজতবা।

বাবার মৃত্যুর পর ৯ মার্চ তাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এরপর থেকে গত দুই মাস তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছিলেন। তেহরানসহ সারা দেশের রাস্তায় তাঁর বিশাল প্রতিকৃতি শোভা পেলেও নাগরিকরা তাঁকে সরাসরি দেখার সুযোগ পাননি।

উত্তরাধিকার ও ক্ষমতার পটপরিবর্তন

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ইরানের ৮৮ সদস্যের শক্তিশালী সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ মোজতবাকে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করে। তবে মোজতবার দায়িত্ব গ্রহণ এমন এক সময়ে হয়েছে যখন ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এমন এক সময়ে এই সাক্ষাতের খবর এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বড় চুক্তির গুঞ্জন চলছে। সর্বোচ্চ নেতার ‘দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি’র প্রশংসা করে পেজেশকিয়ান সম্ভবত সেই সম্ভাব্য চুক্তির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

এখন দেখার বিষয়, এই সাক্ষাতের পর মোজতবা খামেনি সরাসরি টেলিভিশন ভাষণে বা জনসমক্ষে আসেন কি না। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

এনএন/ ৭ মে ২০২৬



Explore More Districts