
ওয়াশিংটন, ০৪ মে – মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে পার করে দিতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এই প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে -এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই প্রকল্পের আওতায় হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পারাপারে সহায়তা করবে মার্কিন নৌবাহিনী।
মধ্যপ্রাচ্যের আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বিশ্বে উৎপাদিত মোট তেল-গ্যাস ও জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অচলাবস্থা সরাসরি প্রভাব ফেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত -এর জেরে ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় আটকা পড়ে শতাধিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে তেলবাহী ট্যাঙ্কার, গ্যাসবাহী জাহাজ এবং অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর মূল লক্ষ্য হলো—
* আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি পার করে দেওয়া
* জাহাজগুলোকে সামরিক প্রহরার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
* নিরপেক্ষ দেশগুলোর বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করা
তিনি আরও বলেন, হরমুজে আটকে থাকা অনেক দেশের জাহাজ সরাসরি এই সংঘাতে জড়িত নয়। এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চেয়েছে এবং সেই অনুরোধেই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন আটকে পড়া জাহাজ ও ক্রুদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে, অন্যদিকে তা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ানোর ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। কারণ, ইরানের আরোপিত অবরোধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক উপস্থিতি নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা উস্কে দিতে পারে।
‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাস্তবায়ন কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—হরমুজ প্রণালির এই সংকট এখন আর শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং তা পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জে।
এনএন/ ০৪ মে ২০২৬




