আক্ষেপের ঝড় নাছিমার কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘এক বেলা রান্ধি, তিন বেলা খাই। টাকার অভাবে রান্ধাও বন্ধ থাকে অনেক সময়। মাছ খাই না, মাসের পর মাস যায়। আলুই ভরসা। আলুভাজি, আলুভর্তা দিয়াই সব সময় ভাত খাইতে হয়। বাচ্চারা মাছ খাওয়ার বায়না ধরেছিল, সর্বশেষ ১৫-২০ দিন আগে মিরকা (মৃগেল) মাছ রানছিলাম। শেষ মাংস রানছিলাম রোজার ঈদে, পোলট্রি মুরগি। গত কোরবানির ঈদে চাইয়া-মাইগা গরুর মাংস আনছিলাম। আরেক কোরবানির ঈদ আইল; কিন্তু গরুর মাংস আর রানবার ভাগ্য আমরার হয় নাই।’
আলাপে আলাপে নাছিমা তাঁর অভাবের কথা বলেন। তিনি জানান, ঈদের সময় বাসাবাড়ির মালিকেরা বেতনের সঙ্গে বাড়তি যে বোনাস দেন, তা দিয়ে সন্তানদের নতুন কাপড় কেনার চেষ্টা করেন। অনেক বাসাবাড়ির মালিক পুরোনো কাপড় দেন, তা দিয়ে নিজের চাহিদা মেটান। আয় কম হওয়ায় অনেক সময় তাঁকে ঋণ করতে হয়। কয়েক মাস আগে মাসে এক হাজার টাকা সুদে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা ধার এনেছেন। এ ছাড়া দোকানে বকেয়া পড়েছে সাত হাজার টাকা।

