
বৈরুত, ১৭ এপ্রিল – লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে সরাসরি আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। সম্প্রতি লেবাননের প্রেসিডেন্সি থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি আগামী দিনগুলোতে দেশের স্বার্থে একীভূত জাতীয় দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রেসিডেন্ট আউন স্পষ্ট করে বলেন যে চলমান যুদ্ধবিরতিই মূলত ভবিষ্যৎ আলোচনার মূল পথ উন্মোচন করেছে এবং এই প্রক্রিয়ার পেছনে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর সেখানে লেবানিজ সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নাগরিকদের আশ্বস্ত করেন তিনি। নিজ গ্রাম ও শহরে ফিরে আসা সাধারণ মানুষদের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট বলেন যে সেনাবাহিনী এবং বৈধ নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়া অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি সেখানে থাকবে না। তবে শান্তি প্রক্রিয়ার এই আশার মাঝেই ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানান যে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের অবস্থান থেকে কোনো সেনা সরাবে না ইসরায়েল।
এদিকে এই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্লেখ্য যে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা শান্ত থাকলেও বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি ছুড়েছে বলে অভিযোগ করেছে লেবাননের সেনাবাহিনী। এই ঘটনা শান্তি প্রক্রিয়ার স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এস এম/ ১৭ এপ্রিল ২০২৬




