
বেইজিং, ১৭ এপ্রিল – আকাশপথে পণ্য পরিবহনে নতুন দিগন্তের সূচনা করল চীন। দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি চালকবিহীন বিশাল কার্গো উড়োজাহাজ এইচএইচ ২০০ এর প্রথম সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়না (এভিআইসি) নির্মিত এই আকাশযানটি সম্প্রতি তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে উড্ডয়নকালে কার্গোটি অত্যন্ত স্থিতিশীল ছিল এবং এর প্রতিটি সিস্টেম নিখুঁতভাবে কাজ করেছে।
এই ড্রোনে ১২ ঘনমিটার আয়তনের কার্গো হোল্ড রয়েছে যা প্রয়োজনভেদে ১৮ ঘনমিটার পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এটি সর্বোচ্চ দেড় টন ওজন বহন করতে পারে। ঘণ্টায় ৩১০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম এই আকাশযানটি একনাগাড়ে প্রায় ২ হাজার ৩৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। উদ্ভাবনী নকশা এবং উন্নত কম্পোজিট উপকরণের ব্যবহারের কারণে এর ওজন প্রায় ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে যা এর পরিচালন ব্যয়ও অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচলের সকল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে তৈরি করা এই কার্গোতে রয়েছে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত বাধা এড়ানোর বিশেষ প্রযুক্তি। এটি প্রায় ৫০ হাজার ঘণ্টা পর্যন্ত উড্ডয়ন করতে সক্ষম অথবা অন্তত ১৫ হাজার বার সফলভাবে ওঠানামা করতে পারবে। দুর্গম মালভূমি থেকে শুরু করে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলেও এটি সমানভাবে কার্যকর। মাত্র ৫০০ মিটারের ছোট রানওয়ে ব্যবহার করে এটি উড্ডয়ন করতে পারে এবং মাইনাস ৪০ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাজ করার ক্ষমতা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে এই প্রযুক্তি সীমান্ত এবং দুর্গম অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। বেইজিং একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের গবেষক ওয়াং পেং জানান এই অর্জন চীনের নিম্ন উচ্চতার অর্থনীতি সম্প্রসারণের কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ভবিষ্যতে জরুরি উদ্ধারকাজ বনের আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি খাতের আধুনিকায়নেও বড় ভূমিকা রাখবে। চীন ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতে ৩০০টির বেশি নতুন মানদণ্ড প্রণয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এস এম/ ১৭ এপ্রিল ২০২৬




