ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি, ব্রিজ ভাঙার নির্দেশ

ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি, ব্রিজ ভাঙার নির্দেশ

১৭ April ২০২৬ Friday ৫:২৩:২১ PM

Print this E-mail this


আগৈলঝাড়া ((বরিশাল) প্রতিনিধি:

ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি, ব্রিজ ভাঙার নির্দেশ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়ার ঘটনা সরেজমিন পরিদর্শনে সত্যতা পেয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। 

উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে ব্রিজটি বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে পরিদর্শনে যান উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী।

এ সময় উপস্থিত স্থানীয় শতাতিক লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওই ব্রিজের ঢালাইয়ের সময় ব্রিজের উত্তরের শেষ অংশে রডের সঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সংযুক্ত করে ঢালাই দেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা। এলজিইডির প্রকৌশলী ব্রিজের ঢালাইয়ে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের সত্যতা পেয়ে ব্রিজটি ভাঙার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়ার সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিন পরিদর্শনে পাঠাই, তিনি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ব্রিজের ঢালাইয়ে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের সত্যতা পেয়ে আমাকে অবহিত করেছেন। ব্রিজের স্ট্রাকচারটি বিগত অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের ১ শতাংশের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছিল।কিন্তু ওপরের ঢালাই করা হয়নি। এই অর্থবছরে ব্রিজের ঢালাই করার জন্য আবেদন এসেছে, আমরা কোনো অর্থ বরাদ্দ বা অনুমোদন করিনি।স্থানীয় একজন ইউপি সদস্য নিজ উদ্যোগে ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ঢালাই করেছে এবং ব্রিজের শেষ অংশে এসে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করেছে। উপজেলা প্রকৌশলী আমাকে বলেছেন বাঁশের ব্যবহারের কারণে স্ট্রাকচার ও ঢালাই যথেস্ট মজবুত হয়নি। তাই ঢালাই ভেঙে সরকারি নিয়মের মধ্যে থেকে ব্রিজটি আমরা নির্মাণ করে দেব। আর ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ করে যে আমাদের উপজেলার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ণ করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিম বাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। উক্ত ব্রিজটি নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

ব্রিজটি ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাঁচ ফুট প্রস্থ। ব্রিজটির ঢালাই দেওয়ার সরকারি নিয়ম রয়েছে ৫ ইঞ্চি, কিন্তু ঢালাই দিয়েছে সাড়ে ৩ ইঞ্চি। আয়রন ব্রিজের দৈর্ঘ্যের ৮ ইঞ্চি ও প্রস্থে ৬ ইঞ্চি পর পর রড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার দিয়েছে ১ ফুট পর পর। স্থানীয়রা ঢালাইয়ের সময় বাধা দিলে ঠিকাদার ৫ পিস রড এনে এবং ঢালাইয়ে সিমেন্ট কম হওয়ায় স্থানীয়দের দিয়ে ৫ ব্যাগ সিমেন্ট ক্রয় করে এনে ব্রিজের উত্তর পাড়ে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মঙ্গলবার ঢালাই সম্পন্ন করে। 

ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতকারী মো. হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা বলেন, খালটি ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্য হলেও ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ব্রিজের ঢালাই দিয়েছে ৪৫ ফুট।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts