বরিশালে ঐক্যের বন্ধনে ব্যতিক্রমী আয়োজনে গুঠিয়ায় ভেদাভেদহীন বর্ষবরণ উৎসব।

বরিশালে ঐক্যের বন্ধনে ব্যতিক্রমী আয়োজনে গুঠিয়ায় ভেদাভেদহীন বর্ষবরণ উৎসব।

১৪ April ২০২৬ Tuesday ৭:০৩:৩০ PM

Print this E-mail this


উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:

বরিশালে ঐক্যের বন্ধনে ব্যতিক্রমী আয়োজনে গুঠিয়ায় ভেদাভেদহীন বর্ষবরণ উৎসব।
Screenshot

বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের তেরদ্রোন গ্রামে দেখা গেল এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী চিত্র। বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব খালিদুর রহমান খাঁনের উদ্যোগে তাঁর নিজ বাড়িতে আয়োজিত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, যেখানে সমাজের সকল ভেদাভেদ ভুলে এর বন্ধনে ধনী, গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে অংশ নেন এক মিলনমেলায়।

গ্রামীণ ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির অনন্য বন্ধনে গড়ে ওঠা এ আয়োজনে বৈশাখের সকাল থেকেই ছিল আগত অতিথিদের আপ্যায়নে পরিবেশন করা হয় বাঙালির চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী পান্তা ভাত, আলুভর্তা, ডালের বড়া ও ডিম। এর সঙ্গে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয় গুঠিয়া বন্দরের সুপরিচিত মিষ্টির কারিগর শ্যামল ভদ্রের হাতে তৈরি গরম গরম জিলাপি, যা উপস্থিত সবার মাঝে বাড়তি আনন্দ ও স্বাদ যোগ করে। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন দুপুর পর্যন্ত জমে ওঠে এক আনন্দঘন পরিবেশে।

আয়োজকদের ভাষ্য, কেবল উৎসব উদযাপন নয়, বরং সমাজে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে এক ছাদের নিচে এনে একসাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

বিকেল গড়াতেই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে বৈশাখের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন। গ্রামীণ পরিবেশে এমন প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজন উপস্থিত সকলের মন জয় করে নেয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ডি.বি. পাল, নাক-কান বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. চিরঞ্জীব সিনহা পলাশ, ডা. সংযুক্ত দেবনাথ মৃদুলা, অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম, এডভোকেট শিবু লাল বনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি এ এম জি ভুলু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন খান ও শিপন মিয়া।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আঃ রহিম সরদার, যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হক মুন্না, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বিপ্লব কুমার হাজারী, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সোহাগসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অনেকেই জানান, বর্তমান সময়ে যখন সমাজে বিভাজন ও দূরত্ব বাড়ছে, তখন এমন একটি উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি শুধু একটি উৎসব নয়, বরং মানুষের মাঝে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও একাত্মতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সব মিলিয়ে, গুঠিয়ার তেরদ্রোন গ্রামে এ ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ আয়োজন হয়ে উঠেছে এক স্মরণীয় মিলনমেলা, যা দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।

অনুষ্ঠানের আয়োজক খালিদুর রহমান খাঁন বলেন বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিগ্রহের কারণে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে। পহেলা বৈশাখ এই  নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা  সমাজের শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। রাজনীতিকায়নের কারণে সমাজে দিনদিন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য সামাজিক পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় বন্ধন একান্ত প্রয়োজন। সকল ভেদাভেদ ভুলে সমাজের শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ আয়োজন অবদান রাখবে বলে বিশ্বাস করছেন তিনি।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts