বর্ডার এরিয়া কনট্রোল করলে দেশে তেলের সংকট হবে না বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বর্ডার সাইটে যেসব রুটে চোরাচালান মালামাল আসা যাওয়া করে তার একটা ম্যাপ আমাকে দেন। বিশেষ করে বিজিবি এখন তেলের ডিপোতে চেক দেওয়া দরকার। এখান থেকে তেল বাইরে যেতে পারে। এজন্য ওই স্পটগুলোতে আলাদা চেকপোস্ট বসান। বর্ডার এরিয়া যদি কনট্রোল করতে পারি, দেখবেন দেশে তেলের সংকট হবে না। সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। অথচ এটা যদি অন্যদিকে চলে যায়, জনগণের লাভ কী হবে?’
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিজিবির উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারের ওপর এত চাপ থাকা স্বত্বেও এত টাকা করে থেকে দেওয়ার পরেও যদি তেল বাইরে চলে যায় এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনারা এ ব্যাপারে কঠিন থেকে কঠিনতর অবস্থান নেন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন বর্ডারে কতটুকু জায়গা প্রটেকশন দেওয়া দরকার। আমাদের এখানে গুলি করে হত্যা বা এই জাতীয় জিনিস আমরা কমিয়ে আনতে পারি সেই ব্যবস্থা নিবেন।’
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভার আমি বা বাণিজ্য মন্ত্রী থাকি বা না থাকি, আমাদেরকে প্রতি মাসের রিপোর্টটা পাঠাবেন। কী কী প্রস্তাব হয়েছিল, কী কী বাস্তবায়ন হচ্ছে বা হচ্ছে না এগুলো আমাদের নলেজে থাকলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে। ছিনতাই-রাহাজানি রোধে এক সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক ফলাফল দেখতে চাই।’
জেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রী প্রশাসনকে তাগিদ দেন এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিদেশগামী ও প্রবাসী যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে নির্দেশ প্রদান করেন।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য থেকে যারা ফিরে এসেছেন তারা আবার যাওয়ার জন্য ভিসা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ভিসা এক্সটেনশন করছে সরকার। এছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিহত প্রবাসীদের দেশে আনা হচ্ছে এবং যারা প্রবাসে অবস্থান করতে চান তাদের নিরাপত্তায় মিশনগুলো কাজ করছে।’
সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরে অর্জন নিয়ে বলেন, ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার স্বাক্ষর ফলপ্রসূ এবং সফল হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্রাদার হিসেবে সম্বোধন করেছেন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে আগের সরকারের সময় বন্ধ ছিল। এখন তা পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। শুধু মালয়েশিয়া নয়, সব দেশেই শ্রমবাজার নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে, যাতে প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানো যায়।’
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেকসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অফিসের প্রতিনিধিগন। এই সভায় জেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

