বরগুনায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে, ৩২ ঘণ্টায় ৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি

বরগুনায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে, ৩২ ঘণ্টায় ৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি

১১ April ২০২৬ Saturday ১০:০৯:২৫ PM

Print this E-mail this


বরগুনা প্রতিনিধি:

বরগুনায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে, ৩২ ঘণ্টায় ৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি

বরগুনায় ডেঙ্গু ও হামের আতঙ্ক না কাটতেই নতুন করে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলার হাসপাতালগুলোয় ৫১ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ২১ জন রোগী ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। 

জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পরিবারের একাধিক সদস্যও আক্রান্ত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনায় আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে আমতলী ১৩, বেতাগীতে ৫, বামনায় ৫, পাথরঘাটায় ১৬, তালতলীতে ৬ ও বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৫১ জন ভর্তি হয়েছে। ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত এক সপ্তাহে জেলায় ৩৪৯ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২ হাজার ৬৩৪ ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে চিকিৎসা নিয়েছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, মৌসুম পরিবর্তন, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের তীব্র গরম ও পানি-সংকট পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে। অনেক এলাকায় এখনো নিরাপদ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে দূষিত পানি ব্যবহার করছেন, যা রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

২৫০ শয্যা বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) তাজকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় আমাদের এই হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ৫১ জন ভর্তি হয়েছে। আজ শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ২১ জন। একদিকে হাম অন্যদিকে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট রয়েছে, এ কারণে আমাদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ রয়েছে।’

আজ সকালে ভর্তি হওয়া বরগুনা সদর উপজেলার গর্জনবুনিয়া গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, ‘সকালে দু-একবার পেট ব্যথা করছিল। এর পর থেকে পাঁচ-সাতবার পাতলা পায়খানা হইছে। উপায় না পেয়ে দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি হই।’

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া খেজুরতলা গ্রামের ঊষা রানী জানান, তিনিও সকাল থেকে কয়েকবার পাতলা পায়খানা করেন। পরে তিনিও দুপুরের দিকে ভর্তি হন।

বুড়িরচর গ্রামের চার মাসের শিশু জিহাদকেও ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ায় ভর্তি করানো হয়। তার মা শেফালী বেগম বলেন, তাঁর শিশুসন্তান জিহাদ সকাল থেকে পাতলা পায়খানা করছে। শুধু পায়খানা নয় সঙ্গে বমিও করেছে। এরপর তাকে দুপুরের দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

হাম, ডেঙ্গু আর ডায়রিয়ার প্রভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা। 

আজ দুপুরের পরে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কর্মরত সিনিয়র নার্স নাজমুন্নাহার হিরা বলেন, ‘এত বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে যে সেবা দেওয়া আমাদের কষ্টসাধ্য। তবুও আমরা দিনরাত সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

বরগুনা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবুল ফাতাহ বলেন, হঠাৎ করে বরগুনায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পচা-বাসি খাবার খাওয়ার কারণে এবং এখন তরমুজের মৌসুম থাকায় মানুষ তরমুজ বেশি করে খাচ্ছেন। এ কারণে ডায়রিয়া রোগের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া, সুপেয় পানির অভাবের রয়েছে। যে কারণে ডায়রিয়া এবং ডায়রিয়ার ডিজিজ টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েডসহ অন্যান্য রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts