কলাপাড়ায় জেলেদের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ; ৮০ কেজির বদলে মিলছে ৪৮ থেকে ৫৮ কেজি

কলাপাড়ায় জেলেদের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ; ৮০ কেজির বদলে মিলছে ৪৮ থেকে ৫৮ কেজি

৮ April ২০২৬ Wednesday ৯:১৬:৫১ PM

Print this E-mail this


কলাপাড়া ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

কলাপাড়ায় জেলেদের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ; ৮০ কেজির বদলে মিলছে ৪৮ থেকে ৫৮ কেজি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের নির্ধারিত ৮০ কেজি চালের পরিবর্তে জেলেদের হাতে ৪৮ থেকে ৫৮ কেজি করে চাল তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, দরিদ্র জেলেদের কার্ড আটকে রেখে স্লিপের মাধ্যমে ৫০ থেকে ৬০ কেজি করে চাল নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়া ৩০ ও ৫০ কেজির বস্তা গুলোতেও ওজনে ২ থেকে ৩ কেজি করে কম দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রত্যেক জেলে পরিবার প্রকৃতপক্ষে ৪৮ থেকে ৫৮ কেজি চাল পাচ্ছে।
স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদে বসে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও সেখানে অনিয়মের মাধ্যমে জেলেদের প্রাপ্য চাল কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবহন খরচের নামে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলেদের জন্য ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাসে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী প্রথম দুই মাসে ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ধুলাসার ইউনিয়নে ১ হাজার ৪৫০ জন জেলের জন্য এ চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও অধিকাংশ জেলে নির্ধারিত পরিমাণ চাল পাননি।
ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, কাউয়ারচর গ্রামের জুয়েল হাওলাদার ৩০ কেজির দুটি বস্তা পেয়েছেন, তাতেও ওজনে কম রয়েছে। রেজাউল নামের আরেক জেলে পেয়েছেন ৫০ কেজির একটি বস্তা, সেটিতেও ওজন কম। একই অভিযোগ করেছেন মতি মোল্লা, চান মিয়া মল্লিক, দুলাল বয়াতি ও দুলাল গাজীসহ আরও অনেকে।
জেলেদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই অনিয়ম হচ্ছে। তবে ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, ঘটনাটি তার নজরে এসেছে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)





বরিশাল হার্ট ফাউন্ডেশন ৯ বছর ধরে বন্ধ, বেতন পাচ্ছেন না কর্মচারীরা

শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ: আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন বিল-২০২৬ সংসদে পাস, নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম

পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় আসছে বড় সংস্কার: শিক্ষামন্ত্রী

বরিশালে বেড়েছে লোডশেডিং, তীব্র গরমেে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

Explore More Districts