| ৫ April ২০২৬ Sunday ১২:২৭:৪৮ PM | |
বরগুনা প্রতিনিধি:

হামের হটস্পট বরগুনা সদর উপজেলায় শুরু হয়েছে টিকা দেয়া কার্যক্রম।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে সদর উপজেলার ৪০টি কেন্দ্রে এ টিকা দেয়া কার্যক্রম শুরু হয়।
এরমধ্যে বরগুনা পৌরসভায় ২৫টি কেন্দ্রে এবং উপজেলা ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের ১৫টি স্থানে টিকা দেয়া কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে, সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের টিকা দিতে নিয়ে আসেন অভিভাবকরা। হাম থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে টিকা দিতে নিয়ে এসেছেন বলে জানান তারা।
২১ দিনব্যাপী চলবে টিকা দেয়া কার্যক্রম। টিকার কোনো স্বল্পতা নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে টিকা কেন্দ্রে দেখা যায়, শিশুদের একের পর এক টিকা দিতে নিয়ে আসছেন অভিভাবকরা। কখনও কখনও একাধিক শিশু আসার কারণে জটলা বেঁধে যাচ্ছে। এই কেন্দ্রের জন্য ২৫০০ টিকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সন্তানকে টিকে দিতে নিয়ে আসা আকরামুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, দেশে হাম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ কারণে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। তাই আমার বাচ্চাকে সুরক্ষিত রাখতেই টিকা দিতে নিয়ে এসেছি।
মারিয়া জান্নাত নামে আরেক অভিভাবক বলেন, আমার বাচ্চাকে হামের দুটো টিকা আগে দেয়া হয়েছে। এখন বুস্টার ডোজ দিতে নিয়ে এসেছি। কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়া টিকা দেয়া হয়েছে।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মো. এনামুল কবীর বলেন, ‘৬ মাস বয়স থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকা হবে। যারা এর আগে হামের টিকা নিয়েছেন তারাও টিকা পাবেন। তবে শারীরিকভাবে অসুস্থ কোনো শিশুকে আমরা টিকা দিচ্ছি না। তারা সুস্থ হলে টিকা পাবেন।’
তিনি বলেন, ‘এছাড়া অন্যান্য টিকা যারা দিয়েছেন, সেই টিকা প্রয়োগের ২৮ দিন পর হামের টিকা পাবেন। এছাড়া এখন যারা হামে টিকা দিয়েছেন বা দেবেন তারাও টিকা প্রয়োগের ২৮ দিন পর অন্যান্য টিকা নিতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রের জন্যই ২ হাজার ৫০০ হামের টিকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের পর্যাপ্ত হামের টিকা মজুদ আছে। টিকার কোনো স্বল্পতা নেই।’
এ বিষয়ে বরগুনার সিভিল সার্জন ডাক্তার আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘আমরা সদর উপজেলায় টিকা দেয়া কার্যক্রম শুরু করেছি। আগামীকাল থেকে পুরো উপজেলা জুড়ে টিকে দেয়া কার্যক্রম শুরু হবে। আজ ৪০টি কেন্দ্রের টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। ২১ দিন ব্যাপী আমাদের এই ক্যাম্পেইন চলবে। আশাকরি এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমরা হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।’
বরগুনায় এখন পর্যন্ত হাম আক্রান্ত সন্দেহে ১৪৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৭৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর ২৫ জনের হাম ও একজনের রুবেলা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন ২৭ জন রোগী। এছাড়া হাম আক্রান্ত হয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

