বরগুনায় হামে আক্রান্ত ১৮ শিশু, ঢাকায় ৬২ জনের নমুনা প্রেরণ

বরগুনায় হামে আক্রান্ত ১৮ শিশু, ঢাকায় ৬২ জনের নমুনা প্রেরণ

১ April ২০২৬ Wednesday ১:৪২:৫১ PM

Print this E-mail this


বরগুনা প্রতিনিধি:

বরগুনায় হামে আক্রান্ত ১৮ শিশু, ঢাকায় ৬২ জনের নমুনা প্রেরণ

বরগুনায় শিশুদের মধ্যে হাম ও রুবেলা সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরে জেলায় এখন পর্যন্ত ১৮ জন শিশু হামে এবং একজন রুবেলায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া হামের উপসর্গ থাকায় আরও ৮৪ জন সন্দেহভাজন শিশুর মধ্যে ৬২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৩০ শয্যার একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ১৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন আরও আট শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক প্রস্তুতি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সদর হাসপাতালের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমতলী, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি করে এবং বেতাগীতে একটি শয্যা হাম আক্রান্তদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বরগুনা সদর উপজেলার বাইরে অন্য কোনো এলাকায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি।

সতর্ক হওয়ার পরামর্শ হামের ভয়াবহতা নিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আশিকুর রহমান জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। একজন আক্রান্ত রোগী থেকে ১৬ থেকে ১৮ জন সংক্রমিত হতে পারেন। মূলত হাঁচি, কাশি এবং সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি ছড়ায়।

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুর উচ্চ জ্বর, চোখ লাল হওয়া এবং নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বর্তমানে শিশুদের জ্বর হলে প্রাথমিক সতর্কতাস্বরূপ তাকে আলাদা রাখা জরুরি। পাশাপাশি জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’

মৃত্যুর খবর নেই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, ‘সংক্রমণ শুরুর পরপরই আমরা ১৫ শয্যার দুটি আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছি। তবে আশার কথা হলো, চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘শিশুর জ্বর, সর্দি বা কাশি হলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। সঠিক চিকিৎসা ও আইসোলেশন নিশ্চিত করলে এই রোগ থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।’

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts