তিল ধারণের ঠাঁই নেই ঢাকামুখী লঞ্চগুলোতে

তিল ধারণের ঠাঁই নেই ঢাকামুখী লঞ্চগুলোতে

২৭ March ২০২৬ Friday ১০:৩২:১৪ PM

Print this E-mail this


নগর প্রতিনিধি:

তিল ধারণের ঠাঁই নেই ঢাকামুখী লঞ্চগুলোতে

বরিশাল থেকে ঢাকামুখী লঞ্চগুলোতে নড়াচড়া করার মতো জায়গা পর্যন্ত নেই। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে বরিশাল নদী বন্দরে সর্বোচ্চ ভিড় ছিল আজ শুক্রবার।

শনিবার (২৮ মার্চ) কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে লাখ লাখ মানুষকে। সেই লক্ষ্যে শুক্রবার ঢাকাগামী লঞ্চগুলোতে চোখে পড়ার মতো ভিড় দেখা গেছে।বিলাসবহুল কেবিনগুলো ঈদের অনেক আগেই বুকিং হয়ে গেছে। এখন ডেকে জায়গা পাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে।

বৃহস্পতিবার বরিশাল থেকে ঢাকায় যাত্রী বোঝাই করে ১০টি লঞ্চ পৌঁছায়। সেই লঞ্চগুলোতে উঠতে না পেরে বরিশাল নদীবন্দর থেকে অন্তত ৫০০ মানুষকে ফিরে যেতে হয়।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকেই থ্রি হুইলার থেকে শুরু করে নানা পরিবহনে করে বরিশাল নদীবন্দরে পৌঁছানো শুরু করে কর্মস্থল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া সাধারণ মানুষ। যে যার মতো লঞ্চগুলোর ডেকে জায়গা নিয়ে বসে পড়েন।

banglanews24

বিকেলে বরিশাল নদীবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, বরিশাল থেকে আজ ১৪টি বিলাসবহুল লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এমভি প্রিন্স আওলাদ ১০, কীর্তনখোলা ১০, শুভরাজ ৯, এম খান ৭, সুরভী ৭, সুন্দরবন ১৫, সুন্দরবন ১৬, মানামী, অ্যাডভেঞ্চার ৯, কুয়াকাটা ২, পারাবত ১১, পারাবত ১২, পারাবত ১৮ ও রেডসান ৫ লঞ্চ নোঙর করা হয়েছে।আর বিকেলের মধ্যেই যাত্রী বোঝাই হয়ে গেছে ডেক। এছাড়া ভায়া কিছু লঞ্চ বরিশাল হয়ে ঢাকা যাবে।

সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন বিশাল এক ঢল নামে নদীবন্দরে। যতগুলো লঞ্চ ছিল সবগুলোর ডেকসহ, কেবিনগুলোর সামনে, লঞ্চের সামনের অংশ, দ্বিতীয় তলায়, এমনকি ছাদেও উঠেছেন অসংখ্য মানুষ।

মানামী লঞ্চের সুপারভাইজার মুহাম্মদ বাপ্পী জানান, ঈদের পরে বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার যাত্রী চাপ বেশি হওয়ার আগাম সম্ভাবনা ছিল।এই তিনদিনের সব কেবিন ঈদের ১০ দিন আগেই বুক হয়ে গিয়েছিল।

অ্যাডভেঞ্চার ৯ লঞ্চের সুপারভাইজার নূর খান মাসুদ বলেন, শুক্রবার দুপুরের পরপরই অর্থাৎ বিকেল ৪টার মধ্যে নিচ তলার ডেক যাত্রীতে টইটম্বুর হয়ে গেছে। আমরা অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছি না এবং আমাদের লঞ্চের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী ওঠানো হচ্ছে। ধারণ ক্ষমতা পূর্ণ হলে নদীবন্দর ত্যাগ করা হবে।

সুরভী লঞ্চের কাউন্টার ম্যানেজার সায়েম জানান, অনেকে কেবিনের জন্য ফোন দিচ্ছে। তবে শুক্রবারের কেবিন অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।

সুন্দরবন লঞ্চের কাউন্টার ম্যানেজার শাকিল হাওলাদার বলেন, শুক্রবার ও শনিবারের কেবিনের জন্য প্রচণ্ড চাপ ছিল ঈদের আগে থেকেই। যারা আগে এসেছে, তাদের আগে দেওয়া হয়েছে। কোনো দালাল বা সিন্ডিকেটের হাতে আমাদের লঞ্চের টিকিট যাওয়ার সুযোগ নেই।

সুন্দরবন ১৬ লঞ্চের যাত্রী আব্দুস সোবাহান বলেন, অনেক কাকুতি-মিনতি করেও একটি সিঙ্গেল কেবিন পাইনি। বাধ্য হয়ে কেবিনগুলোর সামনে বিছানার চাদর বিছিয়ে বসে পড়েছি। নিচ তলার ডেকেও জায়গা পাইনি।

একই লঞ্চের আরেক যাত্রী বলেন, এক ধরনের যুদ্ধ করতে হয়েছে ডেকে জায়গা পেতে। দুপুর ২টার পরে এলে আর জায়গা মনে হয় পেতাম না। তারপর ছাদে করে ঢাকা যাওয়া লাগত।

মানামী লঞ্চের কেবিন যাত্রী তাওহীদ হোসেন শুভ বলেন, ঈদের অনেক আগেই সেমি ভিআইপি কেবিন বুকিং করে রেখেছিলাম। তা না হলে যে কপালে পরিবার নিয়ে কি ভোগান্তিতে পড়তাম তা শুধু আল্লাহই জানেন। কেবিনের বাইরে বের হতেই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আজ যে প্রচণ্ড ভিড় হবে সেটা জানতাম এবং সেই ধরনের প্রস্তুতি আগে থেকেই নিয়ে রেখেছি।

এম খান ৭ লঞ্চের যাত্রী সোবাহান মিঞা বলছিলেন, কাল যে করেই হোক অফিস ধরতে হবে। অনেক দিন ছুটি কাটিয়েছি, এরপর অফিসে না গেলে চাকরি থাকবে না। নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রায় চার ঘণ্টা বসা ছিলাম, অনেক দৌড়ঝাঁপ করেও বাস পাইনি। তাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লঞ্চ ঘাটে এসেছি। আপাতত দ্বিতীয় তলায় লঞ্চের একেবারে সামনে গামছা পেতে বসেছি। লঞ্চ ছাড়ুক, দেখি লঞ্চের স্টাফদের ম্যানেজ করে কোনো কেবিন পাওয়া যায় কিনা।

বরিশাল নদীবন্দরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, সন্ধ্যার পরে যাত্রীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তবে কোনো লঞ্চকেই ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বন্দর ত্যাগ করতে দেব না। আমরা কড়া নজরদারি করছি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, কর্মস্থলগামী যাত্রীদের নিরাপত্তায় বরিশাল নদীবন্দর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। তাছাড়া যাত্রীদের যাতে তেমন কোনো দুর্ভোগ বা শঙ্কায় পড়তে না হয় সেজন্য লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে জোরালোভাবে বলা হয়েছে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts