মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের নিজস্ব শর্ত ও কঠোর অবস্থান – DesheBideshe

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের নিজস্ব শর্ত ও কঠোর অবস্থান – DesheBideshe

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের নিজস্ব শর্ত ও কঠোর অবস্থান – DesheBideshe

তেহরান, ২৬ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান নিজ নিজ কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েল, মার্কিন ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে ইরানে ইতিমধ্যে দেড় হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যস্থতায় ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বেশ কিছু কঠিন শর্ত বেঁধে দিয়েছে।

পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সূত্রের বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নেওয়া এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে লাগাম টানা এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

বুধবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তেহরান এই প্রস্তাব গ্রহণে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন হামলা শুরু করবে।

অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরানের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক নয় বলে জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তবে তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন।

বুধবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ইরান স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ এবং ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের সার্বভৌমত্বকে স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি সংঘাতকেও যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যুদ্ধবিরতি না হলে লোহিত সাগর ও বাব আল মান্দেব প্রণালি অবরুদ্ধ করার হুশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ইরান মার্কিন শর্তগুলো মেনে নেবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান। ইসরায়েল এমন একটি চুক্তি চায় যা ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ইরানের ওপর প্রতিরোধমূলক হামলা চালানোর সুযোগ বহাল রাখবে।

বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের বর্তমান লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া।

এনএন/ ২৬ মার্চ ২০২৬



Explore More Districts