
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে যথাযোগ্য মর্যাদায় বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বিয়ানীবাজারের সর্বস্তরের মানুষ। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিয়ানীবাজারের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধায় বীর সন্তানদের স্মরণ করছেন উপজেলা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে শ্রদ্ধার ফুলে ভরে ওঠে শহীদটিলায় অবস্থিত স্থানীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদী।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন সংগঠন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা হাতে ফুল,ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আসছেন বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে যাচ্ছে শহীদ বেদী। একইসঙ্গে দলে দলে ফুল হাতে নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে প্রবেশ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পিএইচজি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ডিসপ্লে প্রদর্শন করতে এসেছে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো:তাহসান সারিম। মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে তার কাছ থেকে জানতে চাইলে ছোট এই শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের একটা গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আছে। মুক্তিযোদ্ধারা বীরের মতো লড়াই করে আমাদের দেশকে স্বাধীন করেছেন। তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের অনেক গল্প বলেছে যেটা শুনে আমি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি।
শিক্ষক বিজিত আচার্য বলেন, আমি প্রতিবছরই শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধ আসি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা দেশ পেয়েছিলাম। তাদের কাছে আমরা চিরঋণী। তাই শহীদ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি বলে জানান তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ কাদির বলেন, আমরা গর্বিত আমাদের শহীদদের জন্য। তাদের জীবনের বিনিময়ে পরিচিত হয়েছে এই বাংলাদেশ ও আমাদের মাতৃভূমি। তাই তাদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।
এর আগে ভোর ৬ টার দিকে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবীবা মজুমদার ও অফিসার ইনচার্জ মো.ওমর ফারুক স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে পৌরশহরের পিএইচজি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সালাম গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার ও অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক। এ সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কুচকাওয়াজ শেষে বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অশংগ্রহণে মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়। এবছর ব্যতিক্রম ডিসপ্লে প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অর্জন করে নিদনপুর সুপাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

