এই বিশাল ফজিলতের পেছনে রয়েছে কোরআনের সেই মূলনীতি—প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ গুণ।
অতএব, রমজানের ৩০টি রোজা + শাওয়ালের ৬টি রোজা = ৩৬টি রোজা।
আর (৩৬ × ১০) = ৩৬০ দিন, যা একটি পূর্ণ বছরের সমান।
এভাবে খুব অল্প আমলের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বান্দাকে বিশাল সওয়াব অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছেন, যা তাঁর অসীম দয়া ও অনুগ্রহের প্রমাণ।
নিয়ম ও সহজতা
রোজাগুলোর গুরুত্ব অধিকাংশ মানুষই জানেন, কিন্তু নিয়ম সম্পর্কে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। প্রকৃতপক্ষে শাওয়ালের এই রোজাগুলো রাখা তুলনামূলক সহজ। কারণ, এগুলো একটানা রাখা বাধ্যতামূলক নয়।
পুরো মাসজুড়ে সুবিধামতো দিন বেছে নিয়ে ছয়টি রোজা পূরণ করা যায়। ধারাবাহিকভাবে রাখা হোক বা বিরতি দিয়ে—উভয়ভাবেই রোজা আদায় করা বৈধ।
এখানে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে—কঠোরতা নয়, বরং সহজতা ও ভারসাম্য।
কাজা ও নফল রোজার অগ্রাধিকার
উত্তম হলো—আগে ফরজের কাজা রোজা আদায় করা, এরপর শাওয়ালের নফল রোজা রাখা। কারণ, ফরজ ইবাদতের গুরুত্ব সর্বাধিক।
তবে কোনো কোনো আলেমের মতে, কেউ চাইলে আগে শাওয়ালের রোজা রেখে পরে কাজা আদায় করতে পারেন। যাঁরা একসঙ্গে দুটো সামলাতে কষ্ট অনুভব করেন, তাঁদের জন্য এটি একটি সুযোগ।
তবে খেয়াল রাখতে হবে, কাজা রোজা এবং শাওয়ালের রোজা এক নিয়তে রাখা যাবে না; প্রতিটি রোজা আলাদা নিয়তে রাখতে হবে।