সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা: এবার ছেলের কবরের পাশে শায়িত হলেন বাবা 

সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা: এবার ছেলের কবরের পাশে শায়িত হলেন বাবা 

২২ March ২০২৬ Sunday ১২:২৫:৩০ PM

Print this E-mail this


রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি:

সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা: এবার ছেলের কবরের পাশে শায়িত হলেন বাবা 

একটি মর্মান্তিক দুূর্ঘটনা  সব তছনছ করে দিয়ে  পরিবারে সারা জীবনের কান্না তৈরী করে দিল।

রাজধানীর সদরঘাটের মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত ছেলে সোহেল ফকিরের কবরের পাশেই এবার শায়িত হলেন তার বাবা মিরাজ ফকির।

শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের নামাজ শেষে মিরাজ ফকিরের জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে তাকে সেই পারিবারিক কবরস্থানেই দাফন করা হয়, যেখানে দু”দিন আগেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছিল তার একমাত্র ছেলে সোহেল ফকিরকে। 

জানাজায় অংশ নেন বরিশাল-৪ ( হিজলা- মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের  সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। 

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জোহরের নামাজের পর বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চর খাককাটা গ্রামের

নুর মোহাম্মদ মৃধাবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সোহেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে  পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ ৪৯ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় বুড়িগঙ্গা নদী থেকে মিরাজ ফকিরের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। কেরানীগঞ্জের লবণের মিল সংলগ্ন এলাকায় তার মরদেহ ভেসে ওঠে। 

প্রসঙ্গত, ১৮ মার্চ বিকেলে সদরঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে যাত্রী ওঠানোর সময় পেছন থেকে ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চটি ধাক্কা দিলে দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সোহেল ফকির (২২)। এ সময় নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন তার বাবা মিরাজ ফকির। গুরুতর আহত হন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুবা ফকির, যিনি বর্তমানে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত সোহেলের চাচা ফারুক ফকির জানান, প্রায় দুই দশক আগে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমান মিরাজ ফকির। সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে কাজ করতেন তিনি। পাঁচ বছর আগে ছেলেকেও সেখানে নিয়ে যান। সোহেলও বাবার পেশায় যুক্ত হন। দুই বছর আগে বিয়ে করে স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা।

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বোনাস পেয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। ঈদের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে। এখন গ্রামে পড়ে আছেন সোহেলের মা ও তার তিন নাবালক বোন। পরিবারটি এখন অসহায় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে তারা দিশেহারা।  ঈদের দিনেও পুরো এলাকাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছিল।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts