ভারতের অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী নয়াদিল্লি সফর করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
রোজার সময় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্টজনদের জন্য ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।
ভারতের এই অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ শেখ হাসিনার আমলে এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও কল্পনা করা কঠিন ছিল। তখন মোদির নীতি ছিল মূলত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। অনেক ভারতীয় থিঙ্কট্যাংক তখনই এই এক ঝুড়িতে সব ডিম রাখার নীতির সমালোচনা করেছিলেন।
এটাও হয়তো কাকতালীয় নয় যে দীর্ঘদিন পর ভারতের পুলিশ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীরকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিএনপিও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হাসিনার ভারত অবস্থান এই ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা হবে না। তবে বিএনপি সম্ভবত ধীরগতিতেই এগোবে এবং রাজপথের প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রাখবে। বাংলাদেশে এখনো অনেক না–বাদী আছেন, যারা ভারতের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান। দিল্লি না ঢাকা বিতর্ক যত দিন রাজপথে থাকবে, তারেক রহমানও হয়তো কিছুটা সতর্কভাবেই এগোবেন।
তবে ধীরগতিতেই হোক, সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলো সামনে রেখে দুই দেশের সরকার যদি আন্তরিকভাবে এগোয়, তাহলে ধীরে ধীরে সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়বে। আর তখনই হয়তো জমে থাকা বরফ গলতে শুরু করবে।
ই-মেইল: [email protected]
*মতামত লেখকের নিজস্ব

