প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায়) হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘এখন দলমত নির্বিশেষে ভালো মানুষের সমাগম ঘটানোর সময়। সময় এখন ভালো মানুষের রাজনীতির। বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরে কোনো চাঁদাবাজের স্থান নেই, কোনো চোর-ডাকাত, সন্ত্রাসের স্থান নেই। হয়রানীমূলক মামলা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের যারা আছেন, আপনারা নিরপেক্ষভাবে নির্ভয়ে কাজ করবেন। দেশের জন্য, এই অঞ্চলের জন্য কাজ করবেন। আমার সহযোগিতা, তারেক রহমানের সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা আপনারা পাবেন।’
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে সদ্য প্রয়াত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সুহেল আহমদ চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনায় তাঁর পরিবার আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি বিশ্বনাথ পৌরসভার কারিকোনা গ্রামে সুহেল আহমদ চৌধুরীর বাড়ির পূর্বের ফুটবল খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমায়ুন কবির সুহেল আহমদ চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন পূর্বে সুহেল ভাইয়ের সাথে আমার আলাপ হয়েছিল। সবসময় তিনি আমাকে বলতেন, আপনি গাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে বিশ্বনাথে আসেন। বাদবাকি তিনি দেখবেন। এখন আল্লাহ পতাকা দিয়েছেন। পতাকা লাগিয়ে বিশ্বনাথে এসেছি। কিন্তু, সুহেল ভাই নেই! ইনশাআল্লাহ, তিনি যে পতাকার আশা করেছিলেন, সে পতাকার মানসম্মান যাতে আমি রক্ষা করতে পারি! সুহেল ভাই ছিলেন বিশ্বনাথের মাটি ও মানুষের নেতা। তিনি সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের সাথে মিলেমিশে চলতেন। তাকে আমি আমার দৈনন্দিন জীবনে খুব মিস করি। তাঁর মাধ্যমেই এই অঞ্চলের মানুষের সাথে আমি পরিচিত হয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ওসমানীনগর স্কুল তিনটা বানালে, বিশ্বনাথে চারটা বানাবো। ওসমানীগরে রাস্তা দুইটা বানালে, বিশ্বনাথে বানাবো তিনটা। বিশ্বনাথে আজ ইলিয়াস আলী সাহেব রাজনীতিতেই নেই, নেই সুহেল আহমদ চৌধুরীও। মনে করবেন না, বিশ্বনাথের মানুষ এতিম হয়ে গেছেন। বিশ্বনাথের জন্যে আমি আছি। আপনাদের কোনো ডরভয় নেই। বিশ্বনাথের মানুষের কিসের ডরভয়! আর, আপনারাও তো আছেন আমার সাথে। আমারও কোনো ভয় নেই।’
বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবদাল মিয়া, সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ, বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়তের আমীর নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, বিশ্বনাথ প্রেস ক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের। টেলি কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন সুহেল আহমদ চৌধুরীর যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছোটভাই ও বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুমন পারভেজ চৌধুরী।
ইফতারের পূর্বে মোনাজাত করেন জামেয়া মোহাম্মদীয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা ফয়জুর রহমান।

