যশোরে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটাতে রোববার নতুন একজন বিচারককে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বিষয়টি বুধবার রাতে নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর।
তিনি জানান, যশোরের আইনাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানও যশোরে আসছেন। তিনি আইনজীবী ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এর আগে, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজসহ দুই বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। স্মারকলিপিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইনমন্ত্রী ও আইনসচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে জেলা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা ও বাসুদেব, যুগ্ম সম্পাদক নুরে আলম পান্নুসহ সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঢাকায় অবস্থান করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলকে অবহিত করেন। পরে বুধবার রাতে নতুন জেলা জজ নিয়োগের সিদ্ধান্ত আসে।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় সিনিয়র আইনজীবী আর এম মইনুল হক খান ময়না বলেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন এবং যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুল ইসলামের আদালত আইনজীবীরা বর্জন করে আসছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে যশোরের বিচার বিভাগ থেকে এখনো কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এতে বিচারকার্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী আমিনুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, ওজিয়ার রহমান, বোরহান উদ্দিন জাকির ও আলহাজ আনিছুর রহমান মুকুলসহ অন্যরা।
এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, তিনি, সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর এবং সিনিয়র আইনজীবী দেবাশীষ দাস বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। সমস্যার সমাধানে তারা আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
রাত ৯টার দিকে সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বলেন, রোববার নতুন একজনকে জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে তিনি যশোরে নতুন করে যোগ দেবেন, নাকি অতিরিক্ত জেলা জজদের মধ্য থেকে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে—তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
তিনি আরও জানান, আগামী ১৭ মার্চ আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোরে এসে আইনজীবী ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের এজলাসে বিচারকের সঙ্গে আইনজীবীদের মতবিরোধের ঘটনা ঘটে। ওই দিন আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও আইনজীবীদের অভিযোগ, এরপর বিচারক আইরিন পারভীনের আচরণ আরও কঠোর হয়ে ওঠে। এর জেরে জরুরি সভা ডেকে আইনজীবীরা দুই বিচারকের তিনটি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।


