জুয়া ও মাদকের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়েছে ফটিকছড়ির হালদা নদীর পাড়। জুয়া-মাদকের এমন সহজলভ্যতায় তরুণরা আশঙ্কাজনক হারে ঝুঁকছে। নদীর পাড়ে কবরস্থানের উপর অস্থায়ী কুঠুরি বানিয়ে জুয়া খেলার আসর এবং কয়েকটি সিন্ডিকেট ইয়াবা সংগ্রহ করে তা বিক্রি করছে। ফলে যুব সমাজ ধ্বংসের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশে নিয়ে শঙ্কায় এ এলাকার মানুষ। প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবিও স্থানীয়দের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউপির নাসির মোহাম্মদ ঘাটের (নাইচ্ছ্যের ঘাট) উত্তর পাশে নদীর পাড়ে অবস্থিত কবরস্থানের উপর প্ল্যাস্টিক এবং কাপড় দিয়ে বানানো হয়েছে কয়েকটি ছোট ছোট কুঠুরি। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে এসব কুঠুরিতে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। একই জায়গায় চলছে মাদকের বেচাকেনা। প্রতিদিন অন্তত ৫ লক্ষাধিক টাকার জুয়া এবং কয়েকশত পিচ ইয়াবা এখানে বেচাকেনা হচ্ছে।
ফটিকছড়ির পাঁচপুকুরিয়া, কাজিরখিল, নাজিরহাট, কাজিরহাট, সুয়াবিল ছাড়াও পাশ্ববর্তী উপজেলা হাটহাজারীর মুহুরিহাট, সরকারহাট থেকেও মানুষ এসে এখানে এসব অপকর্মের সাথে জড়াচ্ছে। জানা যায়- প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে ১টা এবং বিকেল ৪টা থেকে পুরোরাত এ দুই সময়ে চলে জুয়া ও মাদকের আসর। মাঝেমধ্যে কয়েকবার পুলিশ ধাওয়া দিলেও কাউকে ধরতে সক্ষম হয়নি কিংবা এসব কাজ বন্ধও করা যায়নি। জানা গেছে এ আসর চলাকালে আশেপাশের যাতায়াতের প্রতিটি সড়কে তাদের জুয়া ও মাদকের সাথে জড়িত লোকজন বসে থাকে সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই তারা জুয়ার আসরে খবর পাঠিয়ে দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন- দিনরাত এসব জুয়া এবং মাদকের আসরের জন্য তারা অতিষ্ঠ। এসব কাজে জড়িত কাউকে নিষেধ করলে তারা হুমকি-ধমকি সহ মারতে চায়, ফলে কেউ কথা বলার সাহসটুকুও পায়না। মূলত কাজিরখিল এলাকার কয়েকজন যুবক এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করছে।
স্থানীয় সুত্র জানায়- হাটহাজারীর কাটিরহাট এলাকা থেকে আসা ব্যক্তি সুয়াবিল এলাকার ৪জন যুবকের কাছে প্রতি পিস ইয়াবা ১৫০ টাকা করে বিক্রি করে এবং তারা সে মাদক জুয়ার আসর এবং এলাকায় ২৫০ টাকা করে বিক্রি করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আরেক যুবক বলেন- আমার এক আত্মীয় কয়েকদিন আগে জুয়ার আসরে ২লাখ টাকা হারিয়েছে। সে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত জুয়া খেলায় আসক্ত।
এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: সেলিম বলেন- জুয়া, মাদক, সন্ত্রাসসহ সকল ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পুলিশ কাজ করছে। জুয়া এবং মাদকের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান রয়েছে।



