গাজীপুরের হোতাপাড়া সড়ক বিভাজক যেন এক টুকরো জাপান – Daily Gazipur Online

গাজীপুরের হোতাপাড়া সড়ক বিভাজক যেন এক টুকরো জাপান – Daily Gazipur Online

স্টাফ রিপোর্টার: পিচঢালা প্রাণহীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বুক চিরে রূপের পসরা সাজিয়ে বসেছে বসন্ত। মহাসড়কটির বিভাজকের গাজীপুরের বিভিন্ন অংশের কোথাও ফুটেছে রক্তরাঙ্গা পলাশ, কোথাও শুভ্র, হালকা বা গাঢ় গোলাপি জাপানি ক্যাসিয়া রেনিজেরা। ফুলের সৌন্দর্যে অপরূপ দৃশ্যে পরিণত হয়েছে এই মহাসড়কটি।
যাতায়াতের সময় যাত্রীরা এসব দেশি-বিদেশি ফুল দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। কেউ যানবাহন থামিয়ে ছবি তুলছেন, কেউ করছেন ভিডিও। আবার কেউ বাস কিংবা মাইক্রোবাসের জানালা দিয়ে তাকিয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। দূর-দূরান্ত থেকে ফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসছেন অনেকেই।
জানা যায়, ৭ থেকে ৮ বছর আগে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার সময় এক লেনের গাড়ির হেডলাইটের আলো যাতে বিপরীত লেনের গাড়িতে না পড়ে সে জন্য ডিভাইডারের ওপর দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ রোপণ করা হয়। এসব ফুলগাছের মধ্যে ছিল নয়নাভিরাম সোনালু, কাঞ্চন, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, কদম, পলাশ, বাগান বিলাশ, হৈমন্তী, কুর্চি, টগর, জবা, কদম, বকুল, কবরী, জারুল ও জাপানি চেরী গোত্রের ক্যাসিয়া রেনিজেরা।
আজ থেকে তিন-চার বছর আগে পলাশ, জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, বাগানবিলাস, কদম, বকুল ও জবা ফুল ফুটে মুগ্ধ করে যাত্রীদের। গত বছর কিছু গাছে অল্প কিছু জাপানি ক্যাসিয়া রেনিজেরা ফুটেছিল। এবার শীত বিদায় নেওয়ার পর ওই তিন প্রজাতির ক্যাসিয়া রেনিজেরা ফুটতে শুরু করে।
চেরিগুলো বসন্তের শুরুতে মেলে ধরতে শুরু করে তাদের মোহনীয় সৌন্দর্য। তুলোর মতো হালকা সাদা, হালকা গোলাপি ও গাঢ় গোলাপি ফুলে বিশেষ করে মহাসড়কের গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকার সড়ক বিভাজক রূপ নিয়েছে এক টুকরো জাপানে।
পথচারী রুহুল আমিন বলেন, ক্যাসিয়া রেনিজেরা মূলত জাপানি চেরি গোত্রের ফুল, যা বসন্তে ফোটে। শীতের শেষে গাছের পাতা ঝড়ে গিয়ে ফুটতে থাকে এই ফুল।
তুলার মতো হালকা ফুল এমনভাবে ফোটে দেখলে মনে হয় একটি গাছ যেন একটি ফুলের তোড়া। সৌন্দর্যবর্ধন ও যানবাহনের আলোর প্রতিফলন থেকে রক্ষায় সড়কের আইল্যান্ডে লাগানো গাছগুলোতে ফোটা ফুলের মন মাতানো রং মুহূর্তেই মন কাড়ছে দূর-দূরান্তের যাত্রীর পাশাপাশি স্থানীয় পথচারীদের। অনেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তারিক হোসেন বলেন, সড়কের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং যাত্রীদের মন প্রফুল্ল রাখতে নানা রকম ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও নানা প্রজাতির গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Explore More Districts