এছাড়া, চৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে দোলযাত্রার কাহিনী আজ সর্বজনবিদিত। চৈতন্য মহাপ্রভুর দোলযাত্রা কেবল রঙের উৎসব নয়, এটি প্রেমভক্তির এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবাহন। ফাল্গুন পূর্ণিমায় নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শ্রীচৈতন্য।
তাই দোলপূর্ণিমা তাঁর আবির্ভাব তিথি হিসেবেও বিশেষভাবে পালিত হয়। গৌড়ীয় বৈষ্ণব পরম্পরায় এই দিনটি ‘গৌরপূর্ণিমা’ নামে পরিচিত।
চৈতন্যদেব ভক্তির মাধ্যমে মানবমনের মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন। তাঁর প্রচারিত ‘সংকীর্তন আন্দোলন’ ভেদাভেদ ভুলে সকলকে একত্র করেছিল কৃষ্ণপ্রেমে। দোলযাত্রার দিনে মন্দিরে মন্দিরে কীর্তনের ধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও মৃদঙ্গের তাল ভক্তদের আবেগে ভাসিয়ে তোলে। চৈতন্য মহাপ্রভুর মূর্তিতে আবির অর্পণ, শোভাযাত্রা ও নামসংকীর্তনের মধ্য দিয়ে উৎসব প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এই দোলযাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রঙের আড়ালে আসল বার্তা হল প্রেম, সাম্য ও ভক্তির ঐক্য। চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনদর্শন আজও সমাজকে শেখায়, হৃদয়ে কৃষ্ণপ্রেম জাগ্রত হলেই মানবজীবন রঙিন ও পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আধুনিককালে এই রঙের উৎসবকে বরণ করে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ বাঙালি জাতিকে এক অসামান্য বসন্তোৎসব উপহার দিয়েছিলেন। গানে নাচে আবিরের রঙে রাঙিয়ে শালীনভাবে উদযাপন করতে তিনিই গত শতকে শিখিয়েছিলেন। ঋতুরাজ বসন্তকে কেন্দ্র করে কত যে গান তিনি লিখেছেন এবং পাশাপাশি বসন্ত উদযাপনের জন্য ফাল্গুনী, বসন্ত, নবীন নাটকগুলিও লিখেছেন।
সাহিত্যের আঙিনায় বসন্তকে এভাবে স্থান একমাত্র রবীন্দ্রনাথই দিতে পেরেছেন। আজ বাংলার দিকে দিকে তাঁর দেখানো পথেই বসন্তোৎসবের উদযাপন দেখা যায়। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, বসন্তের এই রঙিন উৎসবে মানবমনের জয়মাল্য গাঁথা হয়।
দীপান্বিতা দে : শিশুতোষ গ্রন্থপ্রণেতা ও প্রাবন্ধিক

