সন্দ্বীপ নৌরুট থেকে সি-ট্রাক সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষো/ভে ফুঁসছে দ্বীপবাসী – Chittagong News

সন্দ্বীপ নৌরুট থেকে সি-ট্রাক সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষো/ভে ফুঁসছে দ্বীপবাসী – Chittagong News

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ—প্রায় ৫ লাখ মানুষের বসবাস। এই দ্বীপে সড়ক যোগাযোগ না থাকায় নৌপথই একমাত্র ভরসা।
গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান-এর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া–বাঁশবাড়িয়া নৌরুটে সি-ট্রাক এসটি নিঝুম দ্বীপ চালু করে।

 

 

কিন্তু চালুর মাত্র ২ মাস ১৫ দিনের মাথায়, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ২৫ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি সরিয়ে নেওয়া হয় মহেশখালী–কক্সবাজার নৌরুটে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির মহাপরিচালক (যাত্রী ও প্রশাসন) গোপাল চন্দ্র মজুমদার জানান, জাহাজ সংকটের কারণে সি-ট্রাকটি মহেশখালী–কক্সবাজার রুটে নেওয়া হয়েছে। সি-ট্রাকের পরিবর্তে পুরাতন জাহাজ এমভি মালঞ্চ সন্দ্বীপ রুটে দেওয়া হবে।

এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দ্বীপবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এসটি নিঝুম দ্বীপ বর্ষাকালে চলাচলের জন্য উপযোগী ও তুলনামূলক নিরাপদ ছিল। বিপরীতে এমভি মালঞ্চ আকারে ছোট ও কম গভীরতার হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ।

দ্বীপবাসীর আশঙ্কা, সামনে ঈদ মৌসুমে যাত্রীচাপ বাড়লে দুর্ভোগ আরও তীব্র হবে। সি-ট্রাক না থাকলে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা বাড়ে, সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফয়সাল বলেন, অতীতে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত উঠলেই সন্দ্বীপ–চট্টগ্রাম নৌ যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যেত। অথচ একই সময়ে কাঠের মালবাহী বোটে যাত্রী পারাপার চললেও বিআইডব্লিউটিসির স্টিমার সিগনালের অজুহাতে ঘাটে বসে থাকত। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সন্দ্বীপ চ্যানেলের উপযোগী এসটি নিঝুম দ্বীপ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যাতে ৩/৪ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেতেও নৌযাতায়াত চালু রাখা যায়। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মাথায় কোনো আলোচনা ছাড়াই জাহাজটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল গুপ্তছড়া ঘাটে লালবোট উল্টে ১৮ জন যাত্রী নিহত হন। এছাড়া ২০২২ সালে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়। এসব দুর্ঘটনার পর থেকেই নিরাপদ ও বড় জাহাজের দাবিতে সোচ্চার সন্দ্বীপবাসী।

দ্বীপবাসীর একটাই দাবি—অবিলম্বে এসটি নিঝুম দ্বীপকে পুনরায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া–বাঁশবাড়িয়া নৌরুটে ফিরিয়ে এনে নিরাপদ নৌযাতায়াত নিশ্চিত করা হোক।

 

 

এমএইচএস/সিটিজিনিউজ

Explore More Districts