
ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি – আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধে নগদ অর্থের চাপ মোকাবিলায় বকেয়া রপ্তানি সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংগঠনটির নেতারা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি হস্তান্তর করেন।
চিঠিতে সরকারের কাছে রপ্তানি সহায়তা বা প্রণোদনা বাবদ তৈরি পোশাক খাতের বকেয়া ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দ্রুত ছাড় করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন পরিশোধের জন্য সরকারের কাছে আরও ১৪ হাজার কোটি টাকার স্বল্পসুদে ঋণ বা সফট লোন প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে। বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এনামুল হক খান বাবলু ও সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই চিঠি তুলে দেন। বৈঠক শেষে শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী জানান যে ঈদের আগে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে যাতে কারখানাগুলো সমস্যায় না পড়ে সেজন্যই এই অর্থের দ্রুত ছাড় প্রয়োজন।
বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী এই খাতে এক মাসের মোট বেতন ব্যয় প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা এবং দুই মাসে তা আনুমানিক ১৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। চিঠিতে এই অর্থ সফট লোন হিসেবে সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়েছে। নেতারা জানান যে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে সরকারি ছুটি ও অন্যান্য কারণে প্রায় ২৫ দিন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ফলে মাত্র ৩৫ দিন কাজ করে ৬০ দিনের বেতন পরিশোধ করা অনেক কারখানার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
গভর্নর প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ছাড়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন এবং স্যালারি সাপোর্টের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া প্রণোদনা বিতরণে এসএমই খাত যাতে বঞ্চিত না হয় সেজন্য আলাদা তহবিল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএর নেতারা উল্লেখ করেন যে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে রপ্তানি খাত চাপে থাকায় শিল্প টিকিয়ে রাখতে এই সহায়তা জরুরি।
এস এম/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



