বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ভুলে যাননি তার সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতাকারী জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমানকে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে বিএনপির ইফতার মাহফিলে হাবিবুর রহমানকে পাশে নিয়েই ইফতার করলেন মুক্তাদির। অনেকেই এই বিষয়টিকে সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রতি অটুট আছে বলে মনে করছেন। একই সাথে তারা নির্বাচনের সময়কালিন তাদের প্রধান নির্বাচনি এজেন্টদের মাধ্যমে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটানিং কর্মকর্তার কাছে পাল্টাাল্টি অভিযোগ দিয়েছিলেন।
জানা যায়, আবদুল মুক্তাদির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সিলেট-১ আসন থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট। এর আগে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সিলেট-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মুক্তাদির। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে খন্দকার মুক্তাদির বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে এই দিন বিকালে সিলেট সার্কিট হাউজে ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাসের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বাণিজ্য ও শিল্প খাত আরও সদৃঢ় করতে উভয় দেশ কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, এ আলোচনা সিলেটের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
এদিন মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের সহকারী হাইকমিশনার। বৈঠকে সিলেট অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক বাধা দূরীকরণ, পাট ও বস্ত্র খাতে বিনিয়োগ এবং শিল্প উন্নয়নে কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এরপর সন্ধ্যায় বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।
এর আগে সিলেট নগরীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেল কার্যক্রম আকস্মিক পরিদর্শন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এদিন বিকালে লাক্কাতুরা এলাকায় টিসিবির পণ্যের মান ও বিতরণ প্রক্রিয়া সরেজমিন দেখে তিনি সাংবাদিকদের জানান, টিসিবির সেবাকে জনগণের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দিতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক নাগরিক কমিটি গঠন করা হবে। যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে।
মন্ত্রী বলেন, টিসিবির পণ্য সরবরাহ কেবল একটি বিতরণ কার্যক্রম নয়, এটি জরুরি সেবা। রমজান উপলক্ষ্যে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রির বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসাবে আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত দেশব্যাপী ট্রাকসেল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরিদর্শনকালে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সাল আজাদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


