বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে স্থান পেয়েছেন চাঁদপুরের চার কৃতি সন্তান। সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক দায়িত্বে তাদের অন্তর্ভুক্তি জেলাবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত এই চার কৃতি সন্তানের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রী ডক্টর আনম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডক্টর মাহাদী আমিন, প্রেস সচিব ডক্টর আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী। তাদের প্রত্যেকেই রাজনীতি, প্রশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ। নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে তারা নতুন সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন বলে দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়াও চাঁদপুরের আরও কয়েকজন কৃতি ব্যক্তিত্ব সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও প্রত্যাশা বাড়ছে। নতুন সরকারে চাঁদপুরের প্রতিনিধিত্ব বাড়ায় জেলার সর্বত্র আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ এ ঘটনাকে চাঁদপুরের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তাদের আশা, চাঁদপুরের এই প্রতিনিধিরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জেলার উন্নয়ন, অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
চাঁদপুরবাসীর প্রত্যাশা, নতুন সরকারের মাধ্যমে দেশ যেমন এগিয়ে যাবে, তেমনি চাঁদপুর জেলার উন্নয়নেও এই চার কৃতি সন্তানের অবদান দৃশ্যমান
ডক্টর আ ন ম এহছানুল হক মিলন :
বিএনপি নেতৃত্বাধীন গঠিত সরকারের মন্ত্রী পরিষদের পূর্ন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডক্টর আ ন ম এহছানুল হক মিলন । এর আগে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে তিনি ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। তিনি নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্রুকলিন কলেজ এবং বোরো অফ ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্মজীবনে ঔষধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবে কাজ করেন। ২০১৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে চাঁদপুরের কচুয়া ১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ডক্টর মাহাদী আমিন :
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শিক্ষা ও গবেষণা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর প্রসেস এক্সেলেন্স এন্ড ইনোভেশনে তথ্য- প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বিষয়ে শিক্ষক ও গবেষক, আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাঙ্ক বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম ক্যামব্রিজের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি আইবিএম, ব্রিটিশ টেলিকম, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার, ওয়েস্টফিল্ড, লন্ডন ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনসহ বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নীতিমালা নিয়ে গবেষণা করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়া মাহদী আমিন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে পলিটিকাল ইকোনমি অব পাবলিক পলিসি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। মাহদী আমিনের অনুপ্রেরণাদায়ী শিক্ষাগত ও পেশাগত অর্জনকে সম্মান জানিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি তাকে নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণ করেছে। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নে দঃ বালিয়া ৭ নং ওয়ার্ডের কৃতি সন্তান।
ডক্টর আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ : বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ডক্টর আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ সালেহ শিবলী নামেই বেশি পরিচিত। তিনি বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন। সালেহ শিবলী চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার গ্রামের বাড়ি গোবিন্দপুর ইউনিয়নে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি মিডিয়া এবং প্রশাসনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকার সময়ও তার প্রেস সচিব ছিলেন সালেহ শিবলী। চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে কলকাতা উপ-হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে জাপানের কিতাকিয়ুশু ফোরাম অন এশিয়ান উইমেন (কেএফএডব্লিউ) প্রকাশিত ম্যাগাজিন এশিয়ান ব্রিজে সালেহ শিবলীর একাধিক নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তিনি গণমাধ্যম ও প্রশাসন সম্পর্কিত বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক রাজনৈতিক গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান সিডনি পলিসি এন্ড রিসার্চ সেন্টারের সঙ্গে নন রেসিডেন্ট ফেলো হিসাবেও কাজ করেছেন
প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পাওয়া মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী মতলবের কৃতিসন্তান। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহীর কমিটির সদস্য (দপ্তরে সংযুক্ত) এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।
প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম/
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


