
এশিয়া, ১৬ ফেব্রুয়ারি – তেঁতুল বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি জনপ্রিয় ফল এবং সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত। শিমের মতো দেখতে এই ফলের ভেতরের টক শাঁস পাকার পর মিষ্টি স্বাদ ধারণ করে। কাঁচা, পাকা কিংবা রান্নায় নানাভাবে তেঁতুলের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। পাতা, বাকল ও কাঠেরও রয়েছে বিবিধ প্রয়োগ।
বিশেষ করে চাটনি, সস, ক্যান্ডি ও পানীয় তৈরিতে এর ব্যবহার সর্বাধিক। এশিয়া, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, আফ্রিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের রান্নায় এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। সম্প্রতি স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শক প্ল্যাটফর্ম ওয়েবএমডি তেঁতুলের স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় তেঁতুলের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। যদিও এর চিকিৎসাগত প্রয়োগ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, তবুও তেঁতুলে থাকা পুষ্টি উপাদান স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এতে রয়েছে ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন, ভিটামিন বি৩ বা নিয়াসিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস। আধা কাপ তেঁতুলে প্রায় ১৪৩ ক্যালোরি, ২ গ্রাম প্রোটিন, ৩৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩ গ্রাম ফাইবার এবং ৩৪ গ্রাম চিনি থাকে। এতে ফ্যাটের পরিমাণ শূন্য। টিস্যুর স্বাস্থ্য রক্ষায় তেঁতুল বেশ কার্যকরী। প্রোটিনের মূল উপাদান অ্যামিনো অ্যাসিড, যা শরীরের বৃদ্ধি ও টিস্যু মেরামতে প্রয়োজন।
তেঁতুলে ট্রিপটোফ্যান ছাড়া অধিকাংশ প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদ্যমান। এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। তেঁতুলে বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে, যা কোষের ডিএনএকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেল থেকে সুরক্ষা দেয়। মস্তিষ্কের সুরক্ষায় ভিটামিন বি শ্রেণির ভিটামিনগুলো অত্যন্ত জরুরি। স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় তেঁতুলে থাকা থায়ামিন ও ফোলেট ভূমিকা রাখে। হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও তেঁতুল উপকারী।
এটি ম্যাগনেশিয়ামের ভালো উৎস, যা হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম অস্টিওপোরোসিস ও হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমায়। তবে সর্তকতা হিসেবে বলা হয়েছে, তেঁতুলের শাঁসে অধিকাংশ ক্যালোরি আসে চিনি থেকে। তাই ওজন বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজন হলে এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। ডায়াবেটিস বা বিপাকীয় সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তেঁতুল খাওয়া শ্রেয়।
এস এম/ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



