যশোর আদালত থেকে ফেনসিডিল চুরির সময় জারিকারক সেলিম আটক, আনন্দে মিষ্টি বিতরণ

যশোর আদালত থেকে ফেনসিডিল চুরির সময় জারিকারক সেলিম আটক, আনন্দে মিষ্টি বিতরণ

যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ধ্বংসের জন্য সংরক্ষিত ফেনসিডিল চুরির সময় হাতেনাতে আটক হয়েছেন আদালতের সমালোচিত জারিকারক সেলিম হোসেন। এ সময় তার শ্যালক হুমায়ন কবীরকেও আটক করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় কোর্ট পুলিশের সদস্যরা তাদের আটক করেন। ঘটনাস্থল থেকে ৪৬ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আটক সেলিম হোসেন যশোর সদর উপজেলার কুয়াদা সিরাজসিংহা গ্রামের মৃত নওশের আলী মোড়লের ছেলে। তার শ্যালক হুমায়ন কবীর সদর উপজেলার লেবুতলা বলেশ্বরপুর গ্রামের আমির হামজার ছেলে।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে যশোর আদালতের সিএসআই শরিফুল ইসলাম মাগরিবের নামাজ শেষে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পূর্ব পাশে বেঞ্চে বসে ছিলেন। এ সময় হুমায়ন কবীর একটি জ্যাকেট পরে আদালত এলাকায় প্রবেশ করেন। জ্যাকেটের ভেতরে ভারী কিছু রয়েছে বলে সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে তিনি দৌড়ে আদালতের আলামত ধ্বংসখানার দিকে চলে যান।

সন্দেহজনক আচরণ দেখে সিএসআই শরিফুল ইসলাম তার পিছু নেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান জারিকারক সেলিম হোসেন একটি ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দুজনই পালানোর চেষ্টা করেন। শরিফুল ইসলামের চিৎকারে নাইটগার্ডসহ অন্যান্যরা এগিয়ে এসে তাদের আটক করেন। পরে তাদের কাছ থেকে আদালতের আলামত ধ্বংসখানা থেকে চুরি করা ৪৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে তাদের নির্দেশনায় সেলিম ও হুমায়নের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা এবং অপরটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আত্মসাৎ, বিচারকের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ সুবিধা নেওয়া, প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। বহুল আলোচিত এই কর্মচারীর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে আদালত প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এ সময় অনেকে মিষ্টি বিতরণ করেন এবং তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে সেলিমের আটকের খবরে রূপদিয়া বাজারের বাসিন্দা মওদুদ ইসলাম আদালত চত্বরে এসে মিষ্টি বিতরণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেলিম হোসেন তার চাকরির প্রভাব খাটিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে তার জমি দখল করেছেন। এ বিষয়ে মামলা করেও তিনি কোনো ন্যায়বিচার পাননি বলে দাবি করেন।

উল্লেখ্য, সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় উঠে এসেছে। আদালত প্রাঙ্গণে তার নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে

Explore More Districts