| ৯ February ২০২৬ Monday ১১:২২:২৮ PM | |
পিরোজপুর প্রতিনিধি:

তিনতলা ভাড়া বাড়িতে একপাশে আবাসিক পরিবারের বসবাস, অন্যপাশে চলছে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি নির্ধারণ করা হলেও করা হয়নি জমি অধিগ্রহণ। উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা ও ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। শিক্ষার্থীদের দাবি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেয়া হোক। ২০২২ সালে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিল সংসদে পাস হলে শুরু হয় এর কার্যক্রম।
২০২৪ সালে ইউজিসির অনুমোদন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমী কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে গণিত, পরিসংখ্যান, মনোবিজ্ঞান এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অধীনে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি এই ৪টি বিভাগে পাঠদান চলছে।
গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতি বিভাগে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, পাঠদান ও হোস্টেল এর কার্যক্রম শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে পরিচালিত হয়।
অন্যদিকে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা এলাকায় পিরোজপুর-নাজিরপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে প্রায় ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ কিংবা ভবন নির্মাণের কোনো কাজ শুরু হয়নি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন ভাড়া বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপর্ণা বলেন, ‘আমি টাঙ্গাইল থেকে এসেছি। এখানে থেকে লেখাপড়া করছি। আমাদের জন্য আবাসিক হলের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। কিন্তু ভাড়াবাড়িতে থেকে আমাদের লেখাপড়া করতে হয়। ফলে খরচের পরিমাণটা একটু বেশি হয়। এছাড়া ল্যাবের সমস্যা রয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস থাকলে পড়ালেখার মান আরও ভালো হতো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করতে পারব এবং নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে পারবো।’
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩০০ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে। আর শিক্ষক আছেন ১৯ জন, কর্মকর্তা কর্মচারী আছে ৩৫ জন এবং ডেইলি বেসিসে কাজ করছেন আরও ১৪ জন। শহরের বিভিন্ন স্থানে ৪টি ভবন ভাড়া নিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচালনার কার্যক্রম।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

