
ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি – ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বাংলাদেশকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়, যেগুলোর লিখিত উত্তর পাঠ করে শোনানো হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।
তাকে প্রশ্ন করা হয়, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক স্পর্শকাতর কি না এবং পাকিস্তান কি এটি ব্যবহার করছে, যা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
জবাবে কীর্তি বর্ধন বলেন, “প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক; এমনকি আমাদের সামাজিক বন্ধনও অভিন্ন। আমাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠক ও পারস্পরিক মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।”
পাকিস্তান কোনো সুযোগ নিচ্ছে কি না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশগুলোর থেকে স্বাধীন।”
এছাড়া বাংলাদেশের যেসব জায়গায় ভারতের জাতীয় স্বার্থ রয়েছে, সেগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং স্বার্থগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তাকে আরেকটি প্রশ্ন করা হয়—বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে (কথিত) প্রকাশ্যে হত্যার ব্যাপারে ভারত সরকার কোনো আলোচনা করেছে কি না।
জবাবে তিনি বলেন, “ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকসহ সকল প্রাসঙ্গিক পরিবেশে উত্থাপন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি তুলেছেন এবং গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সাথে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি আলোচনা করেছেন।”
তাকে আলাদা একটি প্রশ্নে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জোটের’ বিষয়টি ভারত সরকার কি নজরে রেখেছে। কারণ এই দেশগুলোর সঙ্গেই ভারতের সবচেয়ে বেশি সীমান্ত রয়েছে। যদি নজরে রাখা হয়, তাহলে এর ফলে উদ্ভূত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সরকার কী করছে।
জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভারত সরকার ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি সংক্রান্ত স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং এগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে, যার মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।”
‘সবার আগে প্রতিবেশি’ নীতি অনুযায়ী, ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া নিজের দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এনএন/ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::ভারতের সংসদে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা, সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন-উত্তর first appeared on DesheBideshe.


