২০১৪ সালে খননকাজ চলাকালে এই রাস্তার নিচে মিলেছে পনেরো শতকের কালভার্ট, নিরাপত্তাচৌকি এবং প্রাচীন প্রবেশদ্বারের ধ্বংসাবশেষ। তবে সড়কের একটি বড় অংশ এখনো আধুনিক পিচঢালা রাস্তার নিচে চাপা পড়ে আছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক গোলাম ফেরদৌস প্রথম আলোকে বলেন, সুলতানি আমলে হজরত খান জাহান (র.) দক্ষিণবঙ্গ (বাগেরহাট-খুলনা-যশোর অঞ্চল) জয় করার পর অসংখ্য ইটের রাস্তা নির্মাণ করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো বাগেরহাট থেকে পূর্বে চট্টগ্রাম এবং পশ্চিমে যশোর পর্যন্ত বিস্তৃত ইটের তৈরি পাকা সড়ক। এটি মূলত সামরিক ও ধর্মীয় প্রচারের কাজে ব্যবহৃত হতো।
এই সড়ক ঐতিহাসিক সংযোগ ও বাণিজ্যপথ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রাচীনকালে বাংলার অর্থনীতি মূলত নদীকেন্দ্রিক হলেও অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী সড়ক নেটওয়ার্ক কার্যকর ছিল বলে বিভিন্ন সড়ক ঐতিহ্য নির্দেশ করে।
আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া রচিত বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ বইটিতে প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন সড়কের ভৌগোলিক অবস্থান ও ধ্বংসাবশেষের বর্ণনা রয়েছে। সেখানে উল্লেখ, ষোড়শ শতকের পূর্ব পর্যন্ত বরিশাল থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত প্রাচীন রাস্তাটির অস্তিত্বের কথা জানা যায়। তবে পরে প্রবল ভূমিকম্পে প্রমত্ত কীর্তিনাশা পদ্মার গতিপথ পরিবর্তিত হলে অনেক জনবসতির সঙ্গে প্রাচীন রাস্তাটিও একসময় নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

