কমিটির চিহ্নিত করা একটি বড় সমস্যা হলো, প্রকৃত দক্ষতা বা পারদর্শিতাকে (মাস্টারি) মূল লক্ষ্য না বানিয়ে কেবল পরীক্ষার ফলকে গুরুত্ব দেওয়া। স্বাধীনভাবে করা শিক্ষাগত মূল্যায়ন দেখিয়েছে, পরীক্ষার নম্বর আর শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতার মধ্যে ফারাক ক্রমেই বাড়ছে। ফলে নম্বর বা গ্রেড শিক্ষাব্যবস্থাকে ভুল বার্তা দিচ্ছে এবং প্রকৃত অবস্থাটা আড়াল হয়ে যাচ্ছে।
বাস্তবে দেখা গেছে, শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বশীলেরা প্রায়ই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, এই ভ্রান্ত ধারণা ধরে রাখতে মানদণ্ড নিচে নামিয়ে দেন। এতে সমস্যার সমাধান হয় না, বরং সমস্যা আরও চাপা পড়ে। কিন্তু ভুল সংকেতের (সিগন্যালিং ডিস্টরশন) প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আদর্শভাবে পরীক্ষার ফল দেখে বোঝা যাওয়ার কথা—কোন শিক্ষক ভালো পড়াচ্ছেন আর কোথায় সমস্যা আছে। সেই তথ্য ব্যবহার করে শিক্ষার মান উন্নত করা এবং শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার কথা।
কিন্তু বাস্তবে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে উল্টোটা হচ্ছে। পরীক্ষার ফল ঠিকভাবে শিক্ষকের আসল দক্ষতা দেখাচ্ছে না। তবু এই ভুল ফলাফলকেই ভিত্তি করে পদোন্নতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ফলে যাঁরা ভালো পড়ান, তাঁরা আলাদা করে চিহ্নিত হচ্ছেন না, আর যাঁদের পড়ানোর পদ্ধতিতে সমস্যা আছে, সেটিও ধরা পড়ছে না। এতে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাটাই ভুল পথে চলতে থাকে। ভাষা ও গণিতের মতো মূল দক্ষতা আয়ত্ত করার বদলে, বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা এমন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে, যা আসলে দক্ষতা আয়ত্তের জন্য ক্ষতিকর—যেমন রট–নির্ভর (না বুঝে) মুখস্থ করা। মানুষের ইতিহাসে কোনো সময়েই মুখস্থ করা কোনো দক্ষতা শেখার মাধ্যম ছিল না।
আসলে শিক্ষাসংস্কার সহজ হবে না। এটি কষ্টসাপেক্ষ হবে। কমিটি বলছে, কিছু সংস্কার ধাপে ধাপে করা যেতে পারে, কিন্তু কিছু সংস্কারের বিষয়ে আর দেরি করা চলবে না। পরীক্ষার মান বাড়াতেই হবে; এমনকি যদি রাতারাতি ফলাফল ভয়াবহভাবে খারাপ হয়ে যায়, তাহলেও। কারণ, পরীক্ষা যদি সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীর দক্ষতা যাচাই করে, তাহলে গ্রেড পুরো শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে কাজ করে। খারাপ ফলাফল মানে হলো পাঠ্যক্রম, পাঠদান পদ্ধতি ও পাঠ্যবইয়ের জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।


